kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০২২ । ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া

যেভাবে শত নেতার সফর সামাল দেবে যুক্তরাজ্য

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যেভাবে শত নেতার সফর সামাল দেবে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ওয়েস্টমিনস্টার প্রাসাদের ওয়েস্টমিনস্টার হলে সদ্যঃপ্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথকে শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল মানুষের দীর্ঘ সারি। ছবি : এএফপি

ব্রিটেনের রানির মৃত্যুসংবাদ ঘোষণার পর থেকেই শেষকৃত্যের সঙ্গে যুক্ত নানা আনুষ্ঠানিকতার পালনের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শেষশ্রদ্ধা জানাতে লন্ডনে আসা বিশিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রহণ, তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধান করার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জিং কাজটি এখনো বাকি।

যুক্তরাজ্য সরকারের একজন কর্মকর্তা প্রচুর বিদেশি অতিথির বিষয়টি সামলানোকে একসঙ্গে ১০০ রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন করার মতো বলে আখ্যা দিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই একে ঘিরে ভুলভ্রান্তি ও কূটনৈতিক বিপত্তি ঘটারও প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

তা যাতে না হয়, সে লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, উন্নয়ন এবং কমনওয়েলথ দপ্তর গড়ে তুলেছে বিশেষ প্রধান কার্যালয় ‘দ্য হ্যাঙ্গার’। সেখানে একাধিক দল প্রটোকল, সুরক্ষা, যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। তিন শরও বেশি কর্মকর্তাকে তাঁদের দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরিয়ে এনে প্রশাসন সামলানোর ভার দেওয়া হয়েছে। কাজ চলছে ২৪ ঘণ্টাই।

যথাযথভাবে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো দিয়ে শুরু হয় গুরুত্বপূর্ণ এ আনুষ্ঠানিকতা। নিয়মানুসারে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এমন প্রতিটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। শুধু কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে এ নিয়ম খাটবে না।

যেমন—সিরিয়া, ভেনিজুয়েলা ও আফগানিস্তান থেকে কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। কারণ এ মুহূর্তে দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়। ঠিক একই কারণে মিয়ানমার থেকেও কেউ আসছেন না। এ মাসের শুরুতেই এক সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে কারাগারে পাঠিয়েছে দেশটি।

ইউক্রেন পরিস্থিতির আলোকে রাশিয়া ও তার মিত্র বেলারুশ থেকেও কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অন্যদিকে ইরান, নিকারাগুয়া এবং উত্তর কোরিয়াকে শুধু জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পাঠাতে বলা হয়েছে। আমন্ত্রণ পাওয়া ব্যক্তিরা শুধু আরেকজন অতিথি আনার সুযোগ পাচ্ছেন। সাবেক সরকারপ্রধানরা আমন্ত্রণ পাননি।

নিয়মের ব্যতিক্রম দেখা যাবে শুধু ১৪টি কমনওয়েলথ দেশের ক্ষেত্রে, যেখানে এখনো যুক্তরাজ্যের রাজাই নিয়মতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধান। ওই দেশগুলো নিজেদের প্রধানমন্ত্রী, গভর্নর জেনারেল এবং হাইকমিশনার পাঠাতে পারবে। তাঁরা প্রত্যেকে সঙ্গে একজন করে অতিথি আনতে পারবেন এবং আরো ১০ জনকে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ পাবেন।   

বৃহস্পতিবারের মধ্যে আমন্ত্রিতদের নিজ নিজ আসার তথ্য নিশ্চিত করতে হয়েছে। রানির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ঠিক কারা কারা আসছেন, তা এখনো প্রকাশ না করা হলেও যাঁরা আগামী রবিবার লন্ডনে পা রাখবেন, তাঁরা বাকিংহাম প্রাসাদে রাজার অভ্যর্থনা পাবেন। চাইলে রানির কফিনেও শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন তাঁরা।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিশ্বের মোট ১৮৫টি দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩৭০ জন বিশ্বনেতা আসবেন শ্রদ্ধা জানাতে। এ ছাড়া ইউরোপীয় রাজপরিবারগুলোর অনেক প্রতিনিধি থাকবেন। সময়ের স্বল্পতা ও নিরাপত্তাগত কারণে একসঙ্গে এত মানুষকে পৃথক বাহনে সফর করতে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না যুক্তরাজ্যের পক্ষে। আর তাই বেশির ভাগ নেতাকেই বলা হয়েছে, পশ্চিম লন্ডনের নিরাপদ একটি স্থানে জড়ো হতে। সেখান থেকে বিলাসবহুল বাসে চড়ে সফর করতে হবে তাঁদের।

বাসের মতো বড় গাড়িতে একাধিক রাজা, সম্রাট এবং সরকারপ্রধানদের চড়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকে যে আপত্তি তোলেননি, তা নয়। কিন্তু তাতে কান দেওয়ার সময় নেই ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু ব্যতিক্রম থাকবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিজের সাঁজোয়া গাড়ি ‘বিস্ট’-এই সফর করবেন। পৃথক গাড়িতে থাকবেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টও।

অতিথিদের বসার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকবেন কর্মকর্তারা। তালিকা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত আসন বিন্যাস ঠিক করা হবে না বলেই জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। কূটনৈতিক দুর্ঘটনা রোধে ভিন্ন ভিন্ন রাংকের দোহাই দিয়ে কিছু রাষ্ট্রকে আসন বিন্যাসে আলাদা রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের। সূত্র : বিবিসি।

 



সাতদিনের সেরা