kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইরাকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা শিগগিরই কাটছে না

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যকার সহিংসতায় ৩০ জনের মৃত্যুর পর আলোচনার জন্য নতুন করে চাপ দেওয়া হলেও ইরাকের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। কেননা সব রাজনৈতিক দলই নিজেদের দাবিতে অনড়।

গত অক্টোবরের নির্বাচনে সর্বাধিক আসন পায় প্রভাবশালী নেতা মুকতাদা সদরের দল। তবে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নতুন সরকার গঠন করতে পারেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

অন্য দলগুলোর সঙ্গে জোট গড়তে চাইলেও সদর সফল হননি। এর পর থেকেই ইরাক রাজনৈতিক অচলাবস্থায় রয়েছে।

মুকতাদা সদরের প্রধান দাবি, আগামী অক্টোবরের আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে আগাম নির্বাচন দিতে হবে।

সদরের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানপন্থী কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্ক চায়, নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে নতুন সরকারপ্রধান নিয়োগ করা হোক।

দলটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘তাদের সাংবিধানিক কার্যাবলি পালন শুরু করার এবং নাগরিকদের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করার’ আহবান জানিয়েছে।

ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালেহ মঙ্গলবার রাতে বলেছেন, আগাম নির্বাচন এমন অচলাবস্থা থেকে মুক্তি দিতে পারে।

সংবিধান অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটেই পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া যায়। এই জাতীয় ভোট এক-তৃতীয়াংশ আইন প্রণেতার অনুরোধে বা রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে প্রধানমন্ত্রীর দ্বারা সঞ্চালিত হতে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল-কাদেমি রাজনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে পদত্যাগ করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি তারা বিশৃঙ্খলা, সংঘাত, বিভেদ চালিয়ে যেতে চায়...তাহলে আমি নৈতিক পদক্ষেপ নেব এবং উপযুক্ত সময়ে পদত্যাগ করব। ’

ইরাকের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাজাদ জিয়াদ বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান না এলে আবার সহিংসতা বাড়তে পারে। ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই শক্তিশালী সশস্ত্র দলের সংঘর্ষে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশ। ’

গত সোমবার রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন সদর। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই বাগদাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অত্যন্ত সুরক্ষিত অঞ্চলের গ্রিন জোনের সরকারি প্রাসাদেও হামলা চালানো হয়। এ সময় কো-অর্ডিনেশন ফ্রেমওয়ার্কের সঙ্গে সদরপন্থীদের সংঘর্ষ বাধলে কারফিউ জারি করে সেনাবাহিনী।

পরে মঙ্গলবার সদরের দেওয়া ভাষণে এক ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলন প্রত্যাহারের নির্দেশ এলে তাঁর সমর্থকরা গ্রিন জোন ছেড়ে যায়। পরে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে ৩০ জন নিহত এবং ৫৭০ জন আহত হয়। বর্তমানে গ্রিন জোনে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা