kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

৮০ বছরে স্বপ্নপূরণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৮০ বছরে স্বপ্নপূরণ

সপরিবারে মঞ্জুলা পাটেল। ছবি : বিবিসি

ভারতীয় বংশোদ্ভূত মঞ্জুলা পাটেল উগান্ডা থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন। ৮৫ বছর বয়সী মঞ্জুলা এখন ব্রিটেনের সবচেয়ে বেশি বয়সী শেফ এবং রেস্টুরেন্ট মালিক।

মঞ্জুস রেস্টুরেন্টের মালিক এবং পরিচালনাকারী মঞ্জুলা পাটেল। সমুদ্রতীরবর্তী শহর ব্রাইটনের জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ এটি।

বিজ্ঞাপন

গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হয় মঞ্জুসে। মঞ্জুলা পাটেলকে ভালোবেসে অনেকে মঞ্জু নামে ডাকেন। তাঁর ডাকনাম থেকেই রেস্টুরেন্টের নামকরণ করা হয়েছে।

বিবিসি জানিয়েছে, ১৯৩০-এর দশকের শেষের দিকে মা-বাবার সঙ্গে উগান্ডার কাম্পালা শহরে চলে যান মঞ্জুলা। ওই সময় তাঁর বয়স ছিল তিন বছর। মঞ্জুলার বাবা মুদি দোকানি ছিলেন।

মঞ্জুলা জানান, তাঁর শিশুকাল দারুণ কেটেছে; কিন্তু ১৩ বছর বয়সে সব ওলটপালট হয়ে যায়। বাবাকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়ে মঞ্জুলার পরিবার। এক রাতের ব্যবধানে মঞ্জুলার মা হয়ে যান পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। পরিবার সামলাতে মঞ্জুলা তাঁর মায়ের সহকারী বনে যান। মায়ের সহায়তায় রান্নার কাজ শুরু করেন। অফিসকর্মীদের জন্য রান্না করে সরবরাহ শুরু করেন তিনি। শুরুতে ৩৫ জনকে খাবার দিতেন।

১৯৬৪ সালে এক ব্যবসায়ীকে বিয়ে করেন মঞ্জুলা। পরে তাঁদের সংসারে আসে দুই সন্তান। ১৯৭২ সালে চরম বিপাকে পড়েন মঞ্জুলার স্বামী। কারণ ৯০ দিনের মধ্যে তাঁদের উগান্ডা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তখন মঞ্জুলা সপরিবারে লন্ডনে চলে যান। মেশিন অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন মঞ্জুলা। ৬৫ বছর বয়স পর্যন্ত সেই কাজই করেছেন। অথচ জীবনভর স্বপ্ন দেখেছেন নিজের একটা রেস্টুরেন্ট হবে; কিন্তু অর্থাভাবে তা আর করে উঠতে পারেননি। নিজের রান্নার প্রতি মঞ্জুলার ভরসা অবশ্য ছিল বরাবরই। দৈনিক কাজ শেষে বাসায় ফিরে গুজরাটি খাবার রান্না করতেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁর রান্নার ভক্ত। মঞ্জুলার ছেলেও সেই ভক্তদের দলে। তাই ছেলে চেয়েছেন মায়ের স্বপ্ন পূরণ করবেন। কয়েক বছর আগে এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জায়গাও দেখা শুরু হয়। এক পর্যায়ে জায়গা চূড়ান্ত হয়। মঞ্জুলার ৮০তম জন্মদিনে কেনা হয়ে যায় ওই জায়গা। মঞ্জুলার জীবনে ‘সবচেয়ে সুখের দিন’ সেটি।

২০১৭ সাল থেকে স্থানীয় এবং পর্যটকদের সেবা দিয়ে আসছে মঞ্জুস। রেস্টুরেন্টের খাবারের তালিকা বেশ ছোট আর সেগুলো আসলে নিরামিষ। এসব নিয়ে কম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি মঞ্জুলাকে। তবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটা পারিবারিকভাবে সামাল দিয়ে আজকের দিন পর্যন্ত নিয়ে এসেছে মঞ্জুলার প্রিয়জনরা। সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা