kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ ধ্বংসের উপায় মিলল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ ধ্বংসের উপায় মিলল

আমাদের নিত্যব্যবহারের প্রায় সব জিনিস তৈরিতে কাজে লাগানো হয় অথচ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য দায়ী, তার ওপর সহজে ধ্বংস করা যায় না—পিএফএএস নামে পরিচিতি এমন রাসায়নিক পদার্থকে স্বল্প খরচে ধ্বংসের উপায় খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

পলি এবং পারফ্লুরোঅ্যালকাইল সামগ্রীকে ‘পিএফএএস’ নামে প্রকাশ করা হয়। সব মিলিয়ে এ ধরনের চার হাজার ৫০০ ফ্লুরিনভিত্তিক উপাদান রয়েছে। পানি, তেল এবং দাগনিরোধী হওয়ায় পিএফএএসের ব্যবহার খুবই বেশি।

বিজ্ঞাপন

খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণ উপাদান থেকে শুরু করে কাগজ, রং, বর্ষাতি, ফ্রাইপ্যান পর্যন্ত প্রায় সব জিনিসে এগুলো উপস্থিত। এ ধরনের রাসায়নিকের সংস্পর্শে এলে মানুষের নানা রকম গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এসব ঝুঁকির মধ্যে জন্মগত ত্রুটি সৃষ্টি থেকে শুরু করে ক্যান্সার পর্যন্ত রয়েছে।

বৃষ্টির পানিতে এরই মধ্যে স্বল্প মাত্রায় পিএফএএস খুঁজে পাওয়া গেছে। কোনোভাবে এটি যদি পানিতে উচ্চ মাত্রায় মিশে যায়, তাহলে তা গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

পিএফএএসে বিদ্যমান কার্বন এবং ফ্লুরিন যৌগের কারণেই এটি এত টেকসই রূপ ধারণ করে। জৈব রাসায়নিক পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে দৃঢ় যৌগ সেটি; কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড নামের সাধারণ একটি রাসায়নিক ব্যবহার করেই পিএফএএস ভেঙে ফেলা সম্ভব। সাধারণত ঘরের সাবান বা ব্যথানাশকেই মেলে এই সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড। গবেষণাদলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন ব্রিটানি ট্র্যাং। সায়েন্স নামের সাময়িকীতে এসংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকদের বিশ্বাস, আরো গবেষণার মাধ্যমে সুপেয় পানি থেকে পিএফএএস আলাদা করা সম্ভব হবে এবং নতুন এই পন্থায় দূষণকারী ওই বস্তু নষ্ট করে ফেলা যাবে।

রয়াল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির গবেষক ক্যামিলা আলেক্সান্ডার-হোয়াইট বলেছেন, ‘এখনো স্বীকৃতি না পেলেও আমাদের উদ্ভাবিত খুব সাধারণ এই সমাধান চমকপ্রদ। খরচ অল্পের মধ্যে রাখা গেলে এটা হতে পারে যুগান্তকারী। ’

উৎপাদন প্রক্রিয়ায় পিএফএএসের অব্যাহত ব্যবহারের কারণে এটি মাছ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের মধ্যে স্বল্প মাত্রায় প্রবেশ করতে পারে এবং সে ক্ষেত্রে এটিকে এত সহজে প্রাকৃতিকভাবে ভাঙা সম্ভব হবে না। বিষয়টি উল্লেখ করে আলেক্সান্ডার হোয়াইট বলছেন, যেসব পণ্য ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সমাজের গুরুত্বপূর্ণ এবং সেগুলোতে পিএফএএস ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই, শুধু সেসব ক্ষেত্রেই ওই রাসায়নিকের ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।

সর্বাধিক ব্যবহৃত ১০ ধরনের পিএফএএস রাসায়নিক ধ্বংসে নতুন পদ্ধতি প্রয়োগ করে দেখা হয়েছে; কিন্তু মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা এ পর্যন্ত পিএফএএসের ১২ হাজারেরও বেশি ধরন চিহ্নিত করেছে। সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা