kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৪ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় টিকে থাকতে কৌশলী রাশিয়া

অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে সমান্তরাল আমদানি প্রক্রিয়ায় পণ্য আনছে রাশিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞায় টিকে থাকতে কৌশলী রাশিয়া

ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে গতকাল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পুড়তে থাকা রাসায়নিকের এক কারখানা। ছবি : এএফপি

ইউক্রেনে হামলার জেরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে দাঁড়িয়ে আমদানি সচল রাখতে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে রাশিয়া। তাদের দাবি, পণ্য প্রস্তুতকারক পশ্চিমা প্রতিষ্ঠাগুলোকে এড়িয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় আমদানি প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে তারা। এতে পশ্চিমা অবরোধের দৃঢ়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ব্যর্থ প্রমাণ করতে গিয়ে রাশিয়া নিজেদের সাফল্যকে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে প্রচার করছে।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়া পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ‘সমান্তরাল আমদানি (প্যারালাল ইমপোর্ট)’ কৌশল প্রয়োগ করছে। মূলত এই কৌশলে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সম্মতি ছাড়াই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান অন্য দেশ বা অঞ্চলে পণ্য সরবরাহ করে। বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে এসব পণ্য যে অনুমোদনহীন বাজার ব্যবস্থায় বিক্রি হয় সেটাকে বলা হয় ‘অনানুষ্ঠানিক বাজার (গ্রে মার্কেট)’।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী দেনিস মানতুরভ এ সপ্তাহে বলেন, গত মে থেকে জুলাই পর্যন্ত তাঁর দেশ সমান্তরাল আমদানি প্রক্রিয়ায় ৬০০ কোটি ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানি করেছে।  

এ বিষয়ে ব্লুবে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাজার বিশ্লেষক টিমোথি অ্যাশ বলেন, ‘রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রক্ষিতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ আমদানি পণ্য পাওয়ার সব উপায় হাতে রেখেছে মস্কো, যা তার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয়। ’ তিনি আরো বলেন, এ অবস্থায় অবরোধ কঠোর করার বিষয়ে পশ্চিমারা কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ও চ্যালেঞ্জের বিষয়।

গত মে মাসে রাশিয়া অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে পণ্য আমদানির তালিকা প্রকাশ করে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর কম্পানিতে উৎপাদিত হয়। এই তালিকায় জাহাজ, রেল, অটোমোবাইলশিল্পের খুচরা যন্ত্রাংশ থেকে শুরু করে বস্ত্র, জুতা, কসমেটিকসসামগ্রী পর্যন্ত রয়েছে। যেসব কম্পানির পণ্য তালিকায় ছিল তার মধ্যে অন্যতম মার্সিডিজ বেঞ্জ, ভক্সওয়াগন, কন্টিনেন্টাল, ফেরারি, অ্যাপল, স্যামসাং, মাইক্রোসফট ও সিমেন্স।

সমান্তরাল আমদানি প্রক্রিয়ায় মস্কো সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত দেশ বেলারুশ, কাজাখস্তান ও আর্মেনিয়ার বাণিজ্যপথ ব্যবহার করছে। রাশিয়া এই পদ্ধতি সচল রাখতে নিজ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি সুরক্ষার ঘোষণা দিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নানা দিক থেকে প্রশ্ন থাকলেও রাশিয়ার কৌশলী বাণিজ্যের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। অনেক ক্ষেত্রে বেশি মূল্য দিয়ে তারা এসব পণ্য নিয়ে আসছে।

তবে অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে রাশিয়ার আমদানি বাণিজ্যের আকার তেমন বড় নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ বিষয়ে মস্কোর অতিরঞ্জিত প্রচারের আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। এর মাধ্যমে মস্কো তার নাগরিকদের বোঝাতে চায় যে পশ্চিমা অবরোধের মুখে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে মস্কোর বাড়তি প্রচারের ইঙ্গিত পাওয়া যায় তাদের সাম্প্রতিক আমদানি পরিকল্পনা এবং অতীত আমদানির পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলে।  

মস্কো আশা করছে, এ বছর সমান্তরাল আমদানি প্রক্রিয়ায় এক হাজার ৬০০ কোটি ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানি করবে তারা, যা গত বছর মোট আমদানির মাত্র ৪ শতাংশ। বছর শেষে রাশিয়ার আমদানি এক-তৃতীয়াংশ হ্রাস পাবে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। সূত্র : ডয়চে ভেলে

 



সাতদিনের সেরা