kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৩০ সফর ১৪৪৪

চীনের এক অঞ্চলে খরা আরেক অঞ্চলে বন্যা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের এক অঞ্চলে খরা আরেক অঞ্চলে বন্যা

তীব্র খরা ও রেকর্ড ভাঙা দাবদাহের মধ্যে চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়। অন্যদিকে তীব্র খরা মোকাবেলায় মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের কিছু এলাকায় কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর চেষ্টা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তীব্র গরমে বিদ্যুিবভ্রাটের কারণে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে কারখানাগুলো।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি বলছে, চিংহাই প্রদেশের দাতং কাউন্টির পার্বত্য অঞ্চলে চলতি সপ্তাহে আঘাত হানে বন্যা। এতে ছয়টি গ্রামের ছয় হাজার ২০০ জনের বেশি আক্রান্ত হয়েছে এবং ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্তত ১৮ জন নিখোঁজ এবং ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

বন্যা-পরবর্তী ছবিতে দেখা যায়, রাস্তাঘাট কাদায় পরিপূর্ণ, গাছপালা উপড়ে গেছে এবং ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানোর চেষ্টা : এরই মধ্যে এশিয়ার দীর্ঘতম জলপথ ইয়াংজি নদীর পানি রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। নদীর কোনো কোনো অংশে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও কম বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, জলবিদ্যুতের জলাধারগুলোর পানি বর্তমানে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

একই সময়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদক কম্পানিগুলো।

চীনের জাতীয় জলবায়ু কেন্দ্র বলেছে, দুই মাস ধরে চীনে দাবদাহ বইছে, দেশটির ইতিহাসে এর চেয়ে লম্বা সময় ধরে কখনো দাবদাহ স্থায়ী হয়নি।

স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, খরাগ্রস্ত ইয়াংজি নদীর আশপাশের প্রদেশগুলোতে অনাবৃষ্টি মোকাবেলায় কৃত্রিম বৃষ্টিপাত (ক্লাউড সিডিং) ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। হুবেইসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে রকেটের মাধ্যমে আকাশে রাসায়নিক ছিটানো হচ্ছে।

তবে দেশটির কিছু অঞ্চলে পর্যাপ্ত মেঘ না থাকায় সেসব স্থানে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরানো সম্ভব হচ্ছে না।

এরই মধ্যে সিচুয়ান ও পাশের অন্য প্রদেশগুলোতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম সিচুয়ান ডেইলির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, সিচুয়ানের সরকারি অফিসগুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে না নামাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কর্মীদের লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। প্রদেশটির লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুিবভ্রাটের কবলে পড়ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম বলছে, চীনের দাঝো শহরে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষের বসতি। দৈনিক তিন ঘণ্টা বিদ্যুিবভ্রাটের কবলে পড়ছে শহরটির বাসিন্দারা।

সিচুয়ান প্রদেশে বিদ্যুত্সংকটের কারণে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে কারখানাগুলো। বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, এই অঞ্চলে বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎ জলাধার রয়েছে। বর্তমানে এসব জলাধারের পানি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা