kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ অক্টোবর ২০২২ । ২১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিপর্যয়ের শঙ্কায় ‘প্রস্তুত হচ্ছে’ কিয়েভ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিপর্যয়ের শঙ্কায় ‘প্রস্তুত হচ্ছে’ কিয়েভ

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রশ্নে ‘সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য’ প্রস্তুত থাকতে হবে ইউক্রেনকে—গত বুধবার জাপোরিঝিয়ার নিকটবর্তী এক শহরে জরুরি সেবা কর্মীদের মহড়ায় অংশ নিয়ে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

দীর্ঘ সময় ধরেই ওই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গোলাবর্ষণের জন্য একে অন্যকে দোষারোপ করে আসছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। ইউরোপের বৃহত্তম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি মার্চ মাস থেকেই রয়েছে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

বর্তমানে ওই বিদ্যুেকন্দ্রে গোলাবর্ষণকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৮৬ সালের চেরনোবিল পারমাণবিক দুর্যোগের মতো ইউরোপে আরো একটি বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেনিস মোনাসতিরস্কি বলেছেন, ‘রাশিয়ার সেনারা ট্যাংক দিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে গোলা বর্ষণ করবে, তা কেউ কখনো অনুমান করতে পারেনি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘যতক্ষণ রাশিয়ার হাতে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দখল থাকবে, ততক্ষণ গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে। ’

‘উসকানিমূলক’ পরিকল্পনা

এদিকে জাপোরিঝিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবারও ইউক্রেনের দিকে পাল্টা অভিযোগের তীর ছুড়েছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের দাবি, ওই বিদ্যুেকন্দ্রে মানবসৃষ্ট দুর্যোগের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। কিয়েভ ও পশ্চিম ‘উসকানিমূলক’ পরিকল্পনায় লিপ্ত বলেও অভিযোগ ক্রেমলিনের।

রাশিয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ইউক্রেনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এ সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে বিদ্যুেকন্দ্র থেকে রুশ সেনা সরিয়ে নেওয়া, সেখানে থাকা সব গোলাবারুদ সরিয়ে ফেলা এবং সেটিকে মাইনমুক্ত করা।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মুখপাত্র ইগর কনাশেংকভ বৃহস্পতিবার জানান, মস্কো ওই বিদ্যুেকন্দ্রের সুরক্ষা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে সেখানে ভারী অস্ত্র নামানো হয়েছে এমন দাবি অস্বীকার করেন তিনি।

জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা রুশ প্রশাসনের প্রধান ইয়েভগেনি বালিতস্কি এর আগে জানিয়েছিলেন, গোলাবর্ষণের কারণে ওই পারমাণবিক কেন্দ্রের শীতাতপব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া তিনি আরো বলেছিলেন, পুরো কেন্দ্রটি এক ইউনিটের ওপর ভর করে চলছে।

গতকাল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরো দাবি করে, রাশিয়ার ওপর দায় চাপাতে ইউক্রেনের ‘মার্কিন সহায়তাকারীরা’ ওই বিদ্যুেকন্দ্রে ‘ছোট দুর্ঘটনা’ ঘটানোর চেষ্টায় রয়েছে।

মন্ত্রণালয়টি বলছে, জাতিসংঘ প্রধান আন্তোনিও গুতেরেসের ইউক্রেন সফরের সঙ্গে মিলিয়ে ওই ‘উসকানিমূলক’ কর্মকাণ্ডের সময় ঠিক করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ইউক্রেন সফর করেন গুতেরেস। লাভিভে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৈঠকের পর জেলেনস্কি জাপোরিঝিয়ার পরমাণু স্থাপনার ব্যাপারে বলেন, ‘জাতিসংঘকে অবশ্যই এই কৌশলগত স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স



সাতদিনের সেরা