kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পরমাণু যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার যুদ্ধে ৫০০ কোটি প্রাণহানির আশঙ্কা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার যুদ্ধে ৫০০ কোটি প্রাণহানির আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার মধ্যে অত্যাধুনিক পারমাণবিক যুদ্ধ হলে এর কারণে বায়ুমণ্ডলে যে সূর্যালোকরোধী গাদের আস্তরণ দেখা যাবে, তার প্রভাবে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষে প্রায় ৫০০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে। নেচার ফুড সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

রুটগারস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ছয়টি পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাব্য প্রভাবের একটি চিত্র তৈরি করেছেন। এর মধ্যে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পুরোদস্তুর পারমাণবিক যুদ্ধ হলে সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ প্রভাব হতে পারে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষের মৃত্যু।

বিজ্ঞাপন

গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা বলছেন, পারমাণবিক যুদ্ধের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যত জন মারা যেতে পারে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা যাবে বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া পারমাণবিক যুদ্ধের প্রভাবে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ফসল উৎপাদন কমতে পারে ৯০ শতাংশ। এতে অনাহারে মারা যাবে মানুষ।

এমনকি ভারত-পাকিস্তানের আঞ্চলিক পারমাণবিক যুদ্ধের কারণেও পাঁচ বছরের মধ্যে বৈশ্বিক ফসল উৎপাদন আনুমানিক ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে। এ দুই প্রতিবেশীর যুদ্ধে প্রায় ২৫০ কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলে গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি সংঘাতের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ অনুমান করা হয়েছে পরমাণু অস্ত্র বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিঝড় থেকে বায়ুমণ্ডলে কী পরিমাণ ধুলা বা কার্বন আস্তরণ প্রবেশ করতে পারে তা হিসাব করে।

গবেষকরা ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফিয়ারিক রিসার্চের সহায়তায় একটি জলবায়ু পূর্বাভাসমূলক যন্ত্র ব্যবহার করেছেন, যা তাঁদের বিভিন্ন দেশের প্রধান প্রধান খাদ্যপণ্যের উৎপাদন কেমন হতে পারে সেসংক্রান্ত একটি ধারণা দিয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, তুলনামূলক ছোট আকারের পারমাণবিক সংঘাতও বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে।

পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত ফসল ব্যবহারের মাধ্যমে বা খাদ্যের অপচয় কমিয়ে সংঘাত-পরবর্তী তাত্ক্ষণিক ক্ষতি পূরণ করা যাবে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখেন বিজ্ঞানীরা। ফলাফলে দেখা যায়, বড় ধরনের পরমাণু যুদ্ধে যে ক্ষতি হতে পারে, তার তুলনায় সঞ্চিত খাদ্যের পরিমাণ হবে অতি নগণ্য।

ইউক্রেনে মস্কোর আক্রমণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে জল্পনাকল্পনার মধ্যে এ গবেষণা প্রকাশিত হলো। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ চলতি বছর এপ্রিলে পরমাণু যুদ্ধ শুরুর ‘গুরুতর ঝুঁকি’ বিদ্যমান বলে সবাইকে সতর্ক করেছিলেন।

এ ছাড়া মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইপে সফরের পর চীন-তাইওয়ান সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীন এরই মধ্যে তাইওয়ান প্রণালিতে নজিরবিহীন সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে। পশ্চিমা বিশেষজ্ঞদের অভিমত হলো, চীন তার পরমাণু শক্তি বাড়াতে এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

গবেষকদলের অন্যতম সদস্য এবং রুটগারস বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের জলবায়ুবিদ্যার অধ্যাপক অ্যালান রোবোক বলেন, ‘এসব তথ্য আমাদের একটি জিনিসই বলছে, পারমাণবিক যুদ্ধ আমাদের ঠেকাতেই হবে। ’

সিঙ্গাপুরে নানইয়াং টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির খাদ্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক উইলিয়াম চেন বলেন, ‘দৃশ্যমান ক্ষতির চেয়ে পরমাণু যুদ্ধের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব বেশি হবে। ’

সূত্র : ব্লুমবার্গ ও ওয়াশিংটন পোস্ট



সাতদিনের সেরা