kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

৯০ শতাংশ আফগানের প্রথম চাহিদা খাবার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৯০ শতাংশ আফগানের প্রথম চাহিদা খাবার

কাবুলে এক রুটির দোকানের সামনে সহায়তার আসায় ক্ষুধার্ত নারীরা। ছবি : সিএনএন

‘কখনো আমরা রাতে খাই, কখনো খাই না। পরিস্থিতি তিন বছর ধরে খারাপ; কিন্তু গত বছর ছিল সবচেয়ে খারাপ। ’ তালেবান শাসনের এক বছরের পরিস্থিতি তুলে ধরে শাকিলা রাহমাতি জানান, পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনে তাঁর স্বামী ইরান যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।

এই আফগান নারী আরো জানান, আরো অনেক নারীর সঙ্গে তিন ঘণ্টা হেঁটে কাবুলের পাহাড়ের ওপরের একটি দরিদ্র গ্রামে যান তিনি।

বিজ্ঞাপন

গন্তব্য এক রুটির দোকান। সেখানে কেনাকাটা করতে এসে কেউ হয়তো কিছু রুটি দেবে, এই আশা নিয়ে নিত্যদিন এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেন শাকিলা। প্রতিদিন রুটি মেলে না, কিন্তু ক্ষুধা তো ঠিকই বাড়তে থাকে তাঁর এবং তাঁর মতো আরো অনেকের।

আফগানিস্তানে এমন তীব্র খাদ্যসংকট ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গতকাল সোমবার ক্ষমতা দখলের বর্ষপূতি উদযাপন করে তালেবান। গোটা পৃথিবী থেকে কূটনৈতিকভাবে এখনো কার্যত বিচ্ছিন্ন তারা। ক্রমবর্ধমান সংকটের কোনো সুরাহা দেখা যাচ্ছে না। নারীদের শিক্ষা ও কাজের অধিকার দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে।   

বিশ্লেষকরা বলছেন, আফগানিস্তানের ক্ষমতার দৃশ্যপটে তালেবানের পুনরুত্থানের এক বছরে সংকট গভীর হয়েছে। তবে এসব সংকট এড়িয়ে গিয়ে তালেবান যোদ্ধা ও সমর্থকরা দেশ থেকে ‘সাম্রাজ্যবাদী’ বিদেশি শক্তির বিদায়কে প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে তুলে ধরছেন।

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের অর্ধেক জনগণ ক্ষুধার তীব্র সংকটের মধ্যে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) গত মে মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানের ৪৩ শতাংশ মানুষ দিনে এক বেলারও কম খাবার খায়। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ তাদের প্রাথমিক চাহিদা হিসেবে খাদ্যের কথা উল্লেখ করে।

আফগানিস্তানে তালেবানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবরোধের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯০০ কোটি ডলার অর্থ জব্দ হয়ে রয়েছে। বিদেশি সহায়তাও বন্ধ রয়েছে, যা দেশটির বার্ষিক বাজেটের ৮০ শতাংশ পূরণ করত। ইসলামী শরিয়াহর কড়া অনুশাসন আবারও বলবৎ করায় পশ্চিমা দেশগুলো তালেবানকে সহায়তা দিচ্ছে না।

গত এক বছরে অবস্থার কোনো পরিবর্তন না করে কট্টর নীতিগুলো ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করছে তারা। গত মে মাসে নারীদের বোরকা পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেখানে। গত শনিবার ‘রুটি, কাপড় ও স্বাধীনতার’ দাবিতে নারীদের একটি মিছিলে ফাঁকা গুলি ছোড়ে তালেবান। এমনকি মাধ্যমিক স্তরে নারীশিক্ষা আবারও শুরু করতে স্কুল খোলার বিষয়ে তারা এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বরং গত জুন মাসের শেষ নাগাদ নারীশিক্ষা প্রশ্নে তালেবানের শীর্ষনেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা আন্তর্জাতিক চাপকে অবজ্ঞা করে জানিয়ে দেন, আফগানিস্তান তার নিজস্ব নীতিতে চলবে।

আফগানিস্তানের নারীদের কাজের অধিকার কেড়ে নেওয়া শুরু হয় গত বছরের আগস্ট থেকেই। তখন থেকে বেসামরিক প্রশাসনের নারী কর্মীদের বলা হচ্ছে, তাঁরা যেন নিজেদের চাকরি নিকটাত্মীয়কে দিয়ে দেন। দেশটির একজন নারী বলেন, ‘তারা (তালেবান) আমার চাকরিটি আমার ভাইকে দিয়ে দেওয়ার কথা বলছে। ’ ওই নারী আরো বলেন, ‘আমাদের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষার সঙ্গে এই জায়গা আমরা অর্জন করেছি; কিন্তু আমরা তাদের আহ্বানে সাড়া দিলে নিজেদের সঙ্গে সেটি বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে। ’

বেসরকারি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা তালেবানের ভয়ে নারী কর্মীদের নিয়োগ দিতে ভয় পাচ্ছে। আগে থেকে কর্মরত নারী কর্মীদের চাকরি ছাড়ার কথা বলছে তারা।

তালেবান কর্তৃপক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের কোনো দেশই তাদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মূল ধারার বাইরের সংখ্যালঘু ও নারীদের আরো প্রান্তিকীকরণ করাই এর প্রধান কারণ।

মার্কিন নেতৃত্বাধনী ন্যাটো সামরিক জোটের সেনাদের আফগানিস্তান ছাড়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকার মধ্যে গত বছরের ১৫ আগস্ট তালেবান যোদ্ধারা রাজধানী কাবুলে প্রবেশ করে। ওই সময় দেশ ছেড়ে পালান পশ্চিমা মদদপুষ্ট প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি। এরপর তালেবান জানায়, ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের শাসনামলের কট্টর অনুশাসন থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি দেয় তারা; কিন্তু সেই অঙ্গীকার দৃশ্যমান হয়নি।

এ অবস্থার মধ্যে গতকাল তালেবান যোদ্ধা ও সমর্থকরা বিজয় উদযাপন করেছে। রাজধানী কাবুলে মার্কিন দূতাবাসের কাছে তালেবান যোদ্ধারা নানাভাবে উল্লাস প্রকাশ করেন। গত বছর ১৫ আগস্ট কাবুলে প্রবেশকারী একজন যোদ্ধা নিয়ামতুল্লাহ হেকমত গতকাল বলেন, ‘আমরা আমাদের জিহাদ এবং দেশকে স্বাধীন করার বাধ্যবাধকতা পূরণ করেছি। ’ সূত্র : বিবিসি, সিএনএন



সাতদিনের সেরা