kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০২২ । ১৬ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রকৃতিবান্ধব চাষে এগিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিলের তুলাশিল্প

কৃষি খাতে পরিবর্তনের ঢেউ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাজিলের ক্ষেতগুলোয় এখন ভুট্টা আর সয়াবিনের পাশাপাশি শোভা পায় রাশি রাশি তুলা। দেশটির কোনো কোনো জায়গায় তো এই শ্বেত সম্পদের ক্ষেতের দেখা মেলে দিগন্তজুড়ে। এই তুলা চাষের প্রতি ব্রাজিলের চাষিদের ঝোঁক এমনি এমনি তৈরি হয়নি। তুলা চাষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রাজিলের প্রকৃতিবিধ্বংসী কৃষির কুখ্যাতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা তথা প্রকৃতিবান্ধব চাষাবাদ করা।

বিজ্ঞাপন

প্রকৃতিবান্ধব কৃষির মাধ্যমেও যে অগ্রগতি সম্ভব, সেটা করে দেখিয়েছেন ব্রাজিলের তুলা চাষিরা। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তুলা সরবরাহকারী। গত দুই দশকে ১৫ গুণ বেড়েছে দেশটির তুলা রপ্তানি। এ তালিকার শীর্ষ স্থানটি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে।

ইউনিভার্সিটি অব ব্রাজিলিয়ার কীটতত্ত্ববিদ ও তুলা চাষ বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টিনা শিটেনো বলেন, ‘ভোক্তারা বদলে গেছে। প্রকৃতি ও এর চক্রকে সম্মান করে না এমন পণ্য মানুষ আর কিনতে চায় না। ’

অতীতে এ শিল্পের সঙ্গে দাসপ্রথার যোগ, চাষে অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহার এবং এর কারণে আমাজন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বহু সমালোচনার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে শিল্পটিকে।

কৃষি খাতের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ব্রাজিলিয়ান কটন প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন (আবরাপা) ২০০৫ সালে কৃষকদের জন্য টেকসই কৌশলসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে তুলে ধরা হয় কীটনাশক ও পানির যথাযথ ব্যবহার এবং বিষাক্ত পণ্যের বদলে জৈব সার ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

পাশাপাশি ভোক্তাদের জন্য আয়োজন করা হয় ট্রেসিং কর্মসূচি। এর মাধ্যমে তুলাজাত পণ্য উৎপাদনের প্রক্রিয়া দেখা ও জানার সুযোগ করে দেওয়া হয় তাদের জন্য।

আবরাপা জানায়, গত মৌসুমে ব্রাজিলে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার ৩৪ শতাংশ কমেছে, এর পরিবর্তে জায়গা করে নিয়েছে জৈব কীটনাশক। এ ছাড়া আরো সুনিপুণভাবে কীটনাশক প্রয়োগে চাষিরা শুরু করেছেন ড্রোনের ব্যবহার।

আবরাপার নির্বাহী পরিচালক মার্সিও পোর্টোকারেইরো বলেন, ‘প্রথম দিকে কৃষকরা চাষের ফলাফল নিয়ে খুব ভাবত। পরে তারা বুঝতে পারল, টেকসই চাষে পাওয়া ফসলের বাজার একেবারে নিশ্চিত। ’ গতানুগতিক তুলার চেয়ে টেকসই প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তুলা ১০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হয়।

তবে এখনো তুলা চাষ অনেকটাই কীটনাশকনির্ভর। পতঙ্গর হাত থেকে তুলা রক্ষায় রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে কার্যকর জৈব পণ্য নেই কৃষকদের হাতে। এ প্রসঙ্গে কীটতত্ত্ববিদ শিটেনো বলেন, ‘এখনো রাসায়নিক পণ্যের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতা রয়েছে, যা একটি নেতিবাচক পরিবেশগত প্রভাব। ’

ব্রাজিল প্রতিবছর ১৬ লাখ হেক্টর তুলা চাষ করে থাকে। ২০৩০ সাল নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তুলা সরবরাহকারী হতে চাইছে ব্রাজিল। সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা