kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

গাজার যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা হয়েছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাজার যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতা হয়েছে

ইসরায়েলের হামলায় ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরে নিহতদের স্বজনদের আহাজারি। গতকাল তোলা। ছবি : এএফপি

ফিলিস্তিনের গাজার যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এ সমঝোতা গতকাল সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। মিসরের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত ইসরায়েলি বিমান হামলায় ছয় শিশুসহ ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আড়াই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়।

প্রতিবার সংঘাত নিয়ন্ত্রণে মিসরকে সমঝোতা করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়। এবারও তারাই দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ভূমিকা রাখল। গতকাল অসমর্থিত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধের আভাস দেওয়া হয়।

মিসরের ওই কর্মকর্তা জানান, ইসরায়েল অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়েছে। ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকেও একই নিশ্চয়তা দেন ওই কর্মকর্তা।

এর আগে গতকাল খবরে বলা হয়, গতকাল পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ফিলিস্তিনি ইসলামী জিহাদের (পিআইজে) দুই শীর্ষ নেতা রয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০০ জন।

এদিকে ইসরায়েল দাবি করে, গত শুক্রবারের পর তাদের বিভিন্ন শহরে গাজা থেকে ছয় শতাধিক রকেট ও মর্টার ছোড়া হয়েছে। তেল আবিব বলে আসছিল, ‘আসন্ন হুমকি মোকাবেলায়’ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ‘আগাম প্রতিরোধমূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে ‘অপারেশন ব্রেকিং ডন’ পরিচালনা করছে, যা সপ্তাহব্যাপী চলবে।

 ইসরায়েলের আশকেলন থেকে চলছে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ। গতকাল তোলা। ছবি : এএফপি

গত বছরের মে মাসে ইসরায়েলের সংঘাত বাধে গাজার আরেক ইসলামপন্থী সংগঠন হামাসের সঙ্গে। ১১ দিনের ওই সংঘাতে আড়াই শরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহতের পাশাপাশি হামাসের প্রত্যাঘাতে ১৪ ইসরায়েলি নিহত হয়। এবার পিআইজের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে তেল আবিব। হামাসের মতোই রকেট ও মর্টার ছুড়ছে পিআইজে।

তবে গাজা থেকে ছোড়া একটি রকেট গতকাল জেরুজালেম পর্যন্ত পৌঁছায়। মূলত গাজা থেকে ছোড়া রকেট বা মর্টার ইসরায়েলের অত্যাধুনিক আয়রন ডোম প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে আকাশেই ধ্বংস হয়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনো রকেট ইসরায়েলের উপকণ্ঠে পৌঁছলে সেটা বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এদিকে হতাহতের তথ্য তুলে ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম গতকাল জানায়, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালিয়ে ইসরায়েল পিআইজে নেতা খালেদ মানসুরকে হত্যা করে। এর পরই গাজা থেকে রকেট হামলা চালানো হয়, যা জেরুজালেম পর্যন্ত পৌঁছায়।

গত শুক্রবার পিআইজের আরেক নেতা তাইসির আল-জাবির নিহত হন। এই দুজনই পিআইজের সামরিক শাখা আলকুদস ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন।

গাজায় বিমান হামলার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে গ্রেপ্তার অভিযান চলছে।

গত সপ্তাহে পশ্চিম তীরে পিআইজে নেতা বাসাম সাদিকে গ্রেপ্তারের পর থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংগঠনটি উত্তেজনা বাড়ে। এর পরই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

২০০৭ সালে গাজার নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে যাওয়ার পর থেকে সেখানে অবরোধ দিয়ে রেখেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক অভিযানে হামাসের কোনো অস্ত্রাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং হামাসও কোনো রকেট হামলা চালায়নি। তবে হামাস বলছে, গাজার ‘প্রতিরোধগোষ্ঠীগুলো’ ঐক্যবদ্ধ।

পিআইজে ও হামাস আদর্শিকভাবে বেশ কাছাকাছি। এর আগে, ২০১৯ সালের নভেম্বরে পিআইজের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে ইসরায়েল। পাঁচ দিনব্যাপী ওই সংঘাতে ৩৪ ফিলিস্তিনি মারা যায়। সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি ও রয়টার্স

 



সাতদিনের সেরা