kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে জাপান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পথে জাপান

মহড়ার সময় চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। ছবি : এএফপি

মার্কিন স্পিকারের সফরের জবাবে তাইওয়ানের চারপাশে গত বৃহস্পতিবার থেকে সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। জলপথে ছুড়েছে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। যে অঞ্চলে চীন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, তা জাপান থেকে মাত্র ১৬০ কিলোমিটার দূরে। বিশ্লেষকদের ধারণা, চীনের এ কর্মকাণ্ড জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধির ব্যাপারে দেশটির জনসমর্থন বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন

        

জাপানের ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টির জ্যেষ্ঠ আইন প্রণেতা তারা কানো এ প্রসঙ্গে বলছেন, ‘এটি স্পষ্ট যে তাইওয়ানের সঙ্গে কিছু ঘটলে, আমরাও তাতে প্রভাবিত হব। ’

জাপানের জনসাধারণ সামরিক ব্যয় বৃদ্ধিতে সায় দেবে কি না—প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ‘পরিষ্কারভাবেই জাপানে হাওয়া বদলে গেছে। ’

প্রতিরক্ষা বিষয়টিতে জাপান বরাবরই দ্বিধাবিভক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর থেকে দেশটি শান্তিবাদী সংবিধান অনুসরণ করছে। তবে এ স্থিতাবস্থা বদলে দিতে চাচ্ছে বর্তমান ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার সরকার। এ মাসেই প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা বাজেট প্রকাশ করার কথা রয়েছে তাদের। জানা গেছে, তাতে সামরিক ব্যয়ের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৃদ্ধি চোখে পড়বে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর চীনের সামরিক কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জাপানের উদ্বেগ আরো বেড়েছে। কারণ দেশটির আশঙ্কা, এতে চীন বল প্রয়োগের একটি উত্কৃষ্ট নজির পেয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও হয়তো তা থামাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে না—এমন শঙ্কা রয়েছে জাপানের।

জাপানি সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সেসের সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল কাতসুতোশি কাওয়ানো বলছেন, ‘তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে সামরিক ভারসাম্য ব্যাপকভাবে বদলে গেছে। ... আমি আশা করি, প্রতিরক্ষা বাজেটের আলোচনা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। ’

লড়তে প্রস্তুত

গত মাসে জাপানের আইনসভা নির্বাচনের আগে এক ইশতেহারে প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার দল এলডিপি পাঁচ বছরে প্রতিরক্ষা খরচ দ্বিগুণ করে মোট জিডিপির ২ শতাংশ করার প্রস্তাব রেখেছিল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা বাজেট র্যাংকিংয়ের হিসাব বলছে, বাজেটের ওই বৃদ্ধি জাপানকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সামরিক ব্যয়কারীর ঘরে নিয়ে আসবে। এই তালিকার প্রথম দুই অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন।

চীনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা করে কিশিদা প্রতিরক্ষা বাজেট ‘উল্লেখযোগ্যভাবে’ বৃদ্ধির ঘোষণা দিলেও কী পরিমাণ এবং কত দ্রুত তা করবেন, তা এখনো জানাননি। এমনকি জাপানের ওই প্রতিরক্ষা খরচ জনগণের জন্য নির্ধারিত ব্যয় থেকে কর্তন হবে না কি ঋণের মাধ্যমে হবে বা দুটির সমন্বয়ে হবে, তা-ও এখনো বলেননি কিশিদা।

তবে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র কাণ্ড কিশিদাকে এ বিষয়ে নিজ অবস্থান পরিষ্কার করার একটি সুযোগ দিয়েছে। আর তা-ই বলছেন জাপানের টোকিওর তাকুশোকু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক তাকাশি কাওয়াকামি। তিনি বলেন, ‘জাপানের স্পষ্ট করেই দেখানো প্রয়োজন যে তারা লড়াই করতে প্রস্তুত। ’

এর আগে ১৯৯৬ সালের তাইওয়ান সংকটের সময়ও চীন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে স্বশাসিত ভূখণ্ডটিকে বশে আনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সে সময় নিজেদের তুলনামূলক দুর্বল সামরিক বাহিনী নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে রণতরি পাঠানো থেকে নিরস্ত করতে পারেনি তারা। ওই সময়ের পর থেকে চীন নিজেদের প্রতিরক্ষা খরচ ২০ গুণ বৃদ্ধি করেছে। এখন তাদের হাজার কিলোমিটার দূর থেকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যে আঘাত হানার সক্ষমতা রয়েছে। সূত্র : রয়টার্স



সাতদিনের সেরা