kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

খুনের আসামির ২৮ চলচ্চিত্রে অভিনয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খুনের আসামির ২৮ চলচ্চিত্রে অভিনয়

ওম প্রকাশ

১৯৯২ সাল থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন ডাকাতি ও খুনের মামলার আসামি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের ওম প্রকাশ। এর মধ্যে পরিচয় বদলে নাম লিখিয়েছেন ধর্মীয় গানের দলে, কখনো ছিলেন ট্রাকচালক, এমনকি অভিনয় করেছেন স্বল্প বাজেটের ২৮টি চলচ্চিত্রে। তবে এক ভুলে ৩০ বছর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন এই আসামি।

হরিয়ানা পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্সের উপপরিদর্শক বিবেক কুমার জানান, রাজ্যের পানিপথ জেলায় জন্ম নেওয়া ওম প্রকাশ ১২ বছর সেনাবাহিনীর ট্রাকচালকের কাজ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

চার বছর কাজে অনুপস্থিত থাকায় ১৯৮৮ সালে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

ডাকাতি ও খুনের অভিযোগের আগে গাড়ি ও মোটরসাইকেল চুরি করে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ওম। এর পর ১৯৯২ সালে এক সহযোগীকে নিয়ে মোটরসাইকেল চুরি করতে গিয়ে দুজনে মিলে চালককে খুন করেন। হত্যায় ওমের সহযোগী পরে গ্রেপ্তার হয়ে সাত বছর জেলে খেটেছেন।

পালিয়ে যাওয়ার পর প্রথম বছর তামিলনাড়ু এবং অন্ধ্র প্রদেশের মন্দিরে আশ্রয় নেন ওম। সেখান থেকে গানের দলের সদস্য হয়ে জনপদে ঘুরতেন। পরে উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ট্রাকচালকের কাজ শুরু করেন তিনি। সেখানে বিয়ে করে সংসার পাতেন। তিনটি সন্তানও হয় একে একে।

২০০৭ সাল থেকে স্থানীয় স্বল্প বাজেটের চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন ওম। গ্রামপ্রধান, খল ব্যক্তি ও এমনকি পুলিশের কনস্টেবল চরিত্রেও অভিনয় করেন তিনি। মাঝে একবার চুরির অভিযোগে ছয় মাস জেল খেটেছেন ওম। তবে গ্রেপ্তার হলেও খুনের মামলায় পলাতকই থেকে যান তিনি।

গাজিয়াবাদের নতুন ঠিকানা ব্যবহার করে ভোটার এবং আধার কার্ড বানিয়েছিলেন ওম প্রকাশ। আর সেখানেই করেন ভুল। নতুন নথিতে নিজের এবং পিতার প্রকৃত নাম ব্যবহার করেন তিনি।

২০২০ সালে সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক কারবার এবং সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয় হরিয়ানা পুলিশে। তখন ওম প্রকাশের মামলাটি আবারও চালু করা হয়। তাঁকে তোলা হয় ‘মোস্ট ওয়ান্টেডের’ তালিকায়।

শুরুতে ওমের এলাকায় গিয়ে বয়স্কদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি একবার সেখানে ফিরে এসেছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা হয়েছিল, তিনি সম্ভবত উত্তর প্রদেশে থাকেন। পরে উত্তর প্রদেশে ওম প্রকাশের নামে নিবন্ধিত একটি মোবাইলে ফোনের সিমের সন্ধান পাওয়া যায়। তার সূত্র ধরে পরিচয় নিশ্চিত হতে এক সপ্তাহ নজরদারি শেষে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁকে। তবে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও আইনজীবীরা বলেছেন, এত দিনের ঘটনা হওয়ায় ওমের অপরাধ আদালতে প্রমাণ করা কঠিন হবে। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা