kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

সমালোচনায় সরব আসিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা

মিয়ানমারে অগ্রগতির অভাব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিয়ানমারে অগ্রগতির অভাব

সেনাশাসনাধীন মিয়ানমারের সংকট সমাধানের পরিকল্পনায় অগ্রগতির অভাব নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ান। গতকাল শুক্রবার আসিয়ানের একটি বিবৃতিতে মিয়ানমার পরিস্থিতি উঠে আসে। কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনে ১০ দেশের এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ওই বিবৃতি দেন।

চলতি বছরের শেষ নাগাদ আসিয়ান জোটের শীর্ষ সম্মেলনের আগে মিয়ানমারের জান্তা প্রশাসনকে সংকট সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

গত মাসে মিয়ানমারের দুজন গণতন্ত্রপন্থীসহ চার বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর থেকে আসিয়ানভুক্ত কয়েকটি দেশে এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। গতকাল আসিয়ান মন্ত্রীরা এসব মৃত্যুদণ্ডের সমালোচনা করেন। এর ধারাবাহিকতায়ই যৌথ বিবৃতিতে মিয়ানমার প্রসঙ্গ উঠে আসে।

মন্ত্রীদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংকটের সীমিত অগ্রগতি এবং সমস্যা সমাধানে পাঁচ দফা ঐকমত্যের সময়োপযোগী ও সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের বিষয়ে নেপিডো কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতির অভাব পরিলক্ষিত হওয়ায় দেশগুলো গভীরভাবে হতাশ। ’

জোটের গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-২০ অনুযায়ী, জান্তা প্রশাসনের ‘অসহযোগিতার’ কারণে শীর্ষ সম্মেলনের আগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সাধারণত আসিয়ানের যেকোনো সিদ্ধান্ত ঐকমত্যের ভিত্তিতে নেওয়া হয়। কিন্তু ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এই মূলনীতি ছাড়াই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উন্না মং লিউইন নমপেনের এই বৈঠকে আমন্ত্রণ পাননি। গত ফেব্রুয়ারির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সভায়ও নেপিডোর কেউ আমন্ত্রণ পাননি। এ ছাড়া জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং নিজে গত বছরের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে পারেননি।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে মালয়েশিয়া নেপিডোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায়। আগামী শীর্ষ সম্মেলনের আগে মিয়ানমার পরিস্থিতির কোনো অগ্রগতি না হলে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত করা হতে পারে। মালয়েশিয়া ছাড়া আরো কয়েকটি দেশ জোট সদস্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।

গতকালের ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, মিয়ানমারে নিযুক্ত আসিয়ানের বিশেষ দূতকে ‘সব সংশ্লিষ্ট পক্ষের’ সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশটির ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই জোটের এ অবস্থান।

আসিয়ান মন্ত্রীদের আলোচনার সময় নমপেনে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বৈদেশিক নীতিবিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার পরিস্থিতি সমাধানে আরো সাহসী ও শক্তিশালী পদক্ষেপ প্রয়োজন। ’

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনা কর্তৃপক্ষ অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে হটিয়ে দিয়ে ক্ষমতা দখল করে। এরপর বিরোধীদের আন্দোলন কর্মসূচির ওপর জান্তা কঠোর দমননীতি চালায়। পরিণতিতে দুই হাজারেরও বেশি গণতন্ত্রপন্থী প্রাণ হারায়। কয়েক হাজার গণতন্ত্রপন্থী এখন কারাগারে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে আসিয়ান জোট ও মিয়ানমারের মধ্যে পাঁচ দফা ঐকমত্য হয়। কিন্তু মিয়ানমার পরিস্থিতির কার্যকর কোনো পরিবর্তন এখনো দৃশ্যমান হয়নি। সূত্র : এএফপি

 



সাতদিনের সেরা