kalerkantho

শুক্রবার । ৭ অক্টোবর ২০২২ । ২২ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

পেলোসির সফরের জের

প্রতিক্রিয়া নির্ভর করছে শি চিনপিংয়ের ওপর

বিশ্লেষণ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রতিক্রিয়া নির্ভর করছে শি চিনপিংয়ের ওপর

শি চিনপিং

কোনো কিছু হিসাবের বাইরে ঘটার সবচেয়ে বড় বিপদ হলো, তা আবারও হওয়ার অনেক আশঙ্কা থাকে। ঠিক একই ঘটনা এখন ঘটছে তাইওয়ানের ক্ষেত্রে।

মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ানে আলোচিত সফর করে গেলেন। গত কয়েক দশকের মধ্যে তিনিই তাইওয়ান সফরকারী সবচেয়ে উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন

ভবিষ্যতে পেলোসির মতো কারো সফরের পুনরাবৃত্তি হবে না তা যেমন নিশ্চিত করে বলা যায় না, তেমনি তাইওয়ানের কাছাকাছি চীন যে মহড়া শুরু করেছে, সেটিও যে আগামী দিনে আর হবে না তা বলা যাচ্ছে না।

কিন্তু চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের পরিকল্পনা হয়তো ভিন্ন। হয়তো সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে তাইপেকে বাড়তি চাপের মুখে রেখেছে বেইজিং।

চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে যাঁরা যুদ্ধংদেহী তাঁদের জন্য পেলোসির তাইওয়ান সফর আদতে আশীর্বাদই হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে করে তাঁরা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা জোরদার করার একটি ছুতা পেয়েছেন।

তবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাইওয়ান প্রশ্নে একেক পক্ষের একেক রকম অবস্থান। যেমন—চীন মনে করে তাইওয়ান তাদেরই অংশ, যদিও তাইওয়ানের নিজস্ব সরকার, করব্যবস্থা, সামরিক বাহিনী, পাসপোর্ট—সবই রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ভান করে তারা তাইওয়ানকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা দিচ্ছে না। কিন্তু ঠিকই তাদের কাছে উচ্চ প্রযুক্তির অস্ত্র বিক্রি করে, উচ্চপদস্থ রাজনীতিকদের সফরে পাঠায়।

চীনের বেশির ভাগ মানুষই বিশ্বাস করে, নিজ মেয়াদে তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে শি চিনপিংয়ের। এর মধ্য দিয়ে তিনি এমন নেতা হিসেবে ‘অমরত্ব’ পেতে চান, যিনি মাতৃভূমিকে একত্রিত করেছেন।

তবে এক অর্থে, চিনপিংয়ের তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসা নিকট ভবিষ্যতে তাইওয়ানের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। এর পরও যদি বেইজিং তাইওয়ান আক্রমণ করেই বসে, তাহলে চিত্রটা হবে অনেকটা এ রকম—তাদের তাইওয়ান প্রণালি পার হয়ে নিজেদের সেনা নামাতে হবে সেখানে। মুখোমুখি হতে হবে এমন একদল মানুষের, যারা স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে চায়। এ ধরনের যুদ্ধ স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘ হবে। চীনকে এর মূল্য চুকাতে হবে নিজস্ব অর্থনীতির ধ্বংস দেখার মধ্য দিয়ে। শেষ পর্যন্ত পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জিতলেও তারা এমন একটি ভূখণ্ড পাবে, যেখানে লাখো মানুষ বেইজিংয়ের কর্তৃত্বকে ঘৃণা করবে। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা