kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছয় মাসে ক্ষতি ৭২০০ কোটি ডলার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ আগস্ট, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাকৃতিক দুর্যোগে ছয় মাসে ক্ষতি ৭২০০ কোটি ডলার

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে বন্যাকবলিত গান্দাওয়াহ শহরে ত্রাণের অপেক্ষায় একদল দুস্থ নারী। ছবি : এএফপি

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২০২২ সালের প্রথম ছয় মাসে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক সাত হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার। সুইজারল্যান্ডের বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর বীমাকারী সুইস রি গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

জীবন বীমা ও গাড়ির বীমার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও বীমা করে থাকে কিছু প্রতিষ্ঠান। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ত্রাণ ও পুনর্গঠন ব্যবস্থার জন্য এর মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত দুর্যোগকে দুই ভাগে বিভক্ত করে। হারিকেন বা ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয়কে প্রথম স্তরের দুর্যোগ এবং বন্যা ও ঝড়কে বিবেচনা করা হয় দ্বিতীয় স্তরের দুর্যোগ হিসেবে। বীমার অর্থও নির্ধারণ করা হয় সে হিসেবে। সম্প্রতি দ্বিতীয় স্তরের দুর্যোগ বেড়ে যাওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

এই বছরের প্রথম ছয় মাসের ক্ষতি ২০২১ সালের প্রথম ছয় মাসের ক্ষতির তুলনায় কম। গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির অঙ্ক ছিল ৯ হাজার ১০০ কোটি টাকা। আর গত ১০ বছরে গড় ক্ষতির পরিমাণ ছিল সাত হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তবে এবার বন্যা ও ঝড়ের মতো দুর্যোগে আর্থিক ক্ষতি বেশি হওয়ায় বড় লোকসান গুনছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো। আর এসব দুর্যোগ বাড়ার কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দেখা হচ্ছে।

সুইস রিয়ের বিপর্যয় বিভাগের প্রধান মার্টিন বার্টগ বলেন, ইউরোপের দাবানল, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার নজিরবিহীন বন্যার মতো চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনা থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো স্পষ্ট হচ্ছে।

মার্টিন বার্টগ বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে দ্বিতীয় স্তরের দুর্যোগ বাড়ার প্রবণতা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতির মুখে ফেলছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘হারিকেন বা ভূমিকম্প সব দেশে দেখা যায় না। তবে বন্যা ও ঝড় প্রতিটি দেশেই হয়। দ্রুত নগরায়ণের ফলে এই দুর্যোগগুলো বেড়ে যায়। বিশ্বব্যাপী ক্ষতির মাত্রা বিবেচনায় এই ছোট দুর্যোগগুলোর ঝুঁকি মূল্যায়নও হারিকেনের মতো বড় বিপর্যয়ের সমান হওয়া উচিত। ’ বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের শহরাঞ্চলের বন্যা ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয় তিন হাজার ৮০০ কোটি ডলার

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লোকসান গুনছে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো। এ সম্পর্কে সুইস রি বলেছে, শিল্প খাতে দুর্ঘটনার মতো মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিন হাজার ৫০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে, যা গত ১০ বছরের গড়ের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি।

সুইস রিয়ের মতে, ফেব্রুয়ারিতে ইউরোপের বন্যায় বীমাকারীদের ক্ষতি হয়েছে ৩৫০ কোটি ডলার। অস্ট্রেলিয়ার ফেব্রুয়ারি ও মার্চের বীমাকৃত বন্যায় ক্ষতিও প্রায় একই সংখ্যার।

বছরের প্রথম ছয় মাসে ফ্রান্সে ভয়াবহ শিলাবৃষ্টির কারণে এখন পর্যন্ত বীমাকৃত বাজারের ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ৪০০ কোটি ইউরো।

ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন দাবদাহ ও দাবানল সংক্রান্ত ক্ষতি অনুমান না করেই বলা হয়েছে, এতে বিপুল ক্ষতি হয়েছে।

সুইস রিয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জেরোম জিন হেগেলি বলেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের সমাজ ও বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর মধ্যে একটি। ’

সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা