kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

জ্বালানিসংকটে স্তব্ধ অন্য খাতগুলোও

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জ্বালানিসংকটে স্তব্ধ অন্য খাতগুলোও

অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করতে থাকা শ্রীলঙ্কায় জ্বালানিসংকট অন্তত দুই সপ্তাহে কাটছে না। এ অবস্থায় অন্যান্য খাতের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ বিষয়কমন্ত্রী কাঞ্চনা বিজয়াসেকারা জ্বালানিসংকট নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

কাঞ্চনা বিজয়াসেকারা গত রবিবার জানান, সরকারের কাছে এক দিনের নিয়মিত চাহিদার চেয়েও কম পেট্রল মজুদ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আগামী দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে পেট্রলের নতুন চালান আসার সম্ভাবনা নেই।

পেট্রল ও ডিজেল সমস্যার কারণে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত সব সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে অত্যাবশ্যকীয় নয়, এমন গাড়ির জন্য ডিজেল ও পেট্রল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

সরকার দাবি করছে, আগামী ২২ বা ২৩ জুলাই পেট্রলের চালান হাতে আসবে। তবে ডিজেলের একটি চালান সপ্তাহের শেষ দিকে আসার কথা রয়েছে।

বিজয়াসেকারা গতকাল জানান, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই মুহূর্তে জ্বালানি ক্রয়ের জন্য সাড়ে ১২ কোটি ডলার দিতে পারবে; কিন্তু আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রয়োজন ৫৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

শ্রীলঙ্কার বর্তমান সংকট অর্থনীতির অন্য খাতগুলোকে প্রভাবিত করছে। দেশের প্রধান অর্থনৈতিক খাত পর্যটনশিল্প থেকে শুরু করে টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট খাত সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ছে। বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ শক্তিশালী করতে এসব খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জ্বালানি সরবরাহ ঠিক করার জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রপ্তানিমুখী এসব শিল্পের ঘুরে দাঁড়ানো জরুরি। জ্বালানি খাতের সঙ্গে এসব শিল্প খাত অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে থাকায় শ্রীলঙ্কা এক দুষ্টচক্রে পড়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি শিল্প খাতের মধ্যে রয়েছে পর্যটন। পরিবহন ও হোটেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের মতো অনেক কিছুই রয়েছে, যা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। জ্বালানিসংকটের জেরে এ খাতে বুকিং হ্রাস পেয়েছে ৬০ শতাংশ।

দেশটির পরিবহন খাতও কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। বিকাশমান তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিপর্যয়ের পাশাপাশি বিদ্যুত্সংকটের জেরে ইন্টারনেট ব্যবস্থায়ও ধস নেমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানিসংকটের কারণে অন্যান্য খাতে সৃষ্ট নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত তরুণ প্রজন্মকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করবে।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কম্পানি সিলন পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (সিপিসি) অধীনে গ্রাহক পরিষেবা ছাড়াও এক হাজার ৩০০টির মতো জ্বালানি স্টেশন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সংকটকে কাজে লাগিয়ে সিপিসির তেল নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়েছে।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্টের তিন বিচারকের একটি বেঞ্চ তেল ক্রয়, সরবরাহ এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরবরাহের বিবরণ জমা দিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। মৌলিক অধিকার সুরক্ষাসংক্রান্ত একটি আবেদন আমলে নিয়ে গতকাল আদালত এই আদেশ দেন।

সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে এখন পর্যন্ত বেইল আউট চুক্তি করতে পারেনি কলম্বো। তবে গত বৃহস্পতিবার আইএমএফ জানায়, ৩০০ কোটি ডলারের একটি বেইল আউট চুক্তি করতে দুই পক্ষের আলোচনা শেষ হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম প্রধান দুই জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ কাতার ও রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল

পেতে প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে।   সূত্র : বিবিসি, সিলন টুডে

 



সাতদিনের সেরা