kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

এসি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ‘টের পাননি’ চালক

টেক্সাসে লরিতে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এসি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ‘টের পাননি’ চালক

লরিতে মারা যাওয়া এক মেক্সিকানের জন্য বাড়িতে স্বজনদের প্রার্থনা। মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ রাজ্যের এক এলাকা থেকে শুক্রবার তোলা। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে লরিতে আবদ্ধ অবস্থায় তীব্র গরমে ৫৩ অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় যে চালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই চালক টের পাননি যে এসি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আদালতের নথিপত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় বিবিসি।

গ্রেপ্তার লরিচালকের নাম হোমেরো জামোনারো, বয়স ৪৫ বছর। টেক্সাসে লরিতে অভিবাসী মৃত্যুর ঘটনার যে চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, জামোনারো তাঁদের একজন।

বিজ্ঞাপন

এ ছাড়া মানবপাচারের পরিকল্পনাকারী সন্দেহে ২৮ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ান মার্টিনেজকে এবং পাচারে জড়িত সন্দেহে হুয়ান ক্লডিওও ডি’লুনা-মেন্ডেজ ও ফ্রান্সিসকো ডি’লুনা-বিলবাওকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আদালতের নথিপত্রে বলা হয়, টেক্সাসের স্যান অ্যান্টোনিও শহরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী লরিটি নজরে আসার আগে-পরে জামোনারো ও মার্টিনেজ নিজেদের মধ্যে টেক্সট মেসেজ আদানপ্রদান করেছেন। জামোনারো লরির কাছেই ঝোপের ভেতর লুকিয়ে ছিলেন এবং সেখান থেকেই তাঁকে খুঁজে বের করা হয়।

এ ছাড়া মেক্সিকোর কর্মকর্তারা জানান, লরি ফেলে জামোনারো প্রথমে মেক্সিকোয় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় তিনি নিজেকে বেঁচে যাওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, জামোনারো লরি নিয়ে টেক্সাসের লারেডো চেকপয়েন্ট পার হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজে এই দৃশ্য দেখার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং টেক্সাস পুলিশকে তথ্য প্রদানকারী এক সূত্র জানায়, লরিতে থাকা অভিবাসীদের মৃত্যুর তথ্য জানাজানি হওয়ার পর জামোনারো ও মার্টিনেজের মধ্যে কথা হয়েছে। ওই কথোপকথনের সময় মার্টিনেজের কাছ থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে দাঁড়িয়ে ছিল পুলিশের ওই সূত্র। এই মার্টিনেজই দাবি করেছেন, লরির এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি টেরই পাননি চালক জামোনারো এবং এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই অভিবাসীদের মৃত্যু হয়েছে।

গত সোমবার স্যান অ্যান্টোনিওতে ওই লরিতে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের মধ্যে ২৭ জন মেক্সিকোর, ১৪ জন হুন্ডুরাসের, সাতজন গুয়াতেমালার এবং দুজন এল সালভাদরের নাগরিক। মেক্সিকো কর্তৃপক্ষের হিসাবে, লরিতে মোট ৬৭ জন ছিল। আর স্যান অ্যান্টোনিওর প্রসিকিউটর জানান, লরিতে ছিল ৬৪ জন।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে বিপুল হারে মানবপাচারের ঘটনা ঘটে। শুধু মে মাসেই মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশকালে দুই লাখ ৩৯ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা