kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

শেষ হয়নি ভারতের কৃষকদের লড়াই

আমরা নেতাদের সময় ও স্থান নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করছি।...পরে যা হবে তার জন্য আমরা প্রস্তুত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শেষ হয়নি ভারতের কৃষকদের লড়াই

ভারতে বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকদের ২০২০ সালের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

নজিরবিহীন বিক্ষোভ থেকে সরে আসার সাত মাস পর নতুন করে প্রতিবাদে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতের কৃষকরা। সংশোধিত কৃষি আইনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে মাঠে নেমেছিলেন তাঁরা। ভারত সরকার সে সময় কয়েক মাস ধরে কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে আইনটি আদতে তাঁদের জন্য ভালো। কিন্তু কৃষক ও সরকারি কর্মকর্তাদের দফায় দফায় বৈঠকে কোনো লাভ হয়নি।

বিজ্ঞাপন

এর পরিপ্রেক্ষিতে আরেকটি আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। প্রসঙ্গে পাঞ্জাবের নারী কৃষক বাচিত্তার কর বলেন, ‘আমরা নেতাদের সময় ও স্থান নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করছি। ...পরে যা হবে তার জন্য আমরা প্রস্তুত। ’

আন্দোলনরত অবস্থায় নানাভাবে বেশ কয়েকজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল। অনেক কৃষক গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর পরও নিজেদের দাবি থেকে তাঁরা সরে যাননি। ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংশোধনী আইন বাতিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে কৃষকদের কর্মসূচির অবসান ঘটে। তবে কৃষকরা তাৎক্ষণিকভাবে মাঠ ছাড়েননি। নানাবিধ দাবি পূরণে সরকারকে রাজি করিয়ে তাঁরা ঘরে ফেরেন। এর মধ্যে ছিল প্রধান শস্যগুলোর জন্য ন্যূনতম দামের নিশ্চয়তার মতো বিষয়টি।

কিন্তু আন্দোলন গুটিয়ে বাড়ি ফেরার সাত মাস পার হয়ে গেলেও এখনো কৃষকদের দাবি পূরণ করেনি নরেন্দ্র মোদির সরকার। এ পরিস্থিতিতে কী করা যেতে পারে, তা নিয়ে ভাবছেন কৃষকরা। ৩ জুলাই পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করতে বৈঠক ডেকেছেন কৃষক নেতারা। দিল্লির পাশে গাজিয়াবাদ শহরে বৈঠক হবে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে আরেকটি বিক্ষোভ কর্মসূচির আশঙ্কাকেও একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ভারত সরকারের যে কৃষি আইন সংশোধনী নিয়ে এত গণ্ডগোল, তাতে বিক্রি, মূল্য নির্ধারণ ও কৃষিপণ্য সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত তিনটি আইন শিথিল করা হয়েছিল। আইন তিনটি কৃষকদের কয়েক দশক ধরে মুক্তবাজারের হাত থেকে রক্ষা করে এসেছে।

ভারতে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে, কৃষকরা মূলত সরকার নিয়ন্ত্রিত পাইকারি বাজারে ফসল বিক্রি করে থাকেন। ফসলের মূল্যও সরকার নির্ধারণ করে দেয়। এতে তাঁরা ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের (এমএসপি) নিশ্চয়তা পান। কিন্তু সংশোধিত নতুন আইনে এ বিষয়টি ছিল না। সেখানে কৃষকদের বাজারের নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষি ব্যবসা, সুপারমার্কেট চেইন ও অনলাইন মুদি সামগ্রী বিক্রেতাদের কাছে ফসল বিক্রি করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের শঙ্কা ছিল, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। নতুন আইন তাঁদের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সামনে দুর্বল করে তুলবে। করপোরেটদের বেঁধে দেওয়া দামে ফসল বিক্রি করতে হবে তাঁদের।

ভারত সরকার পরে আইনটি বাতিলের সময় কমিটি গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সে সময় কৃষকদের বলা হয়েছিল, এমএসপি ইস্যু খতিয়ে দেখতে ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের প্রতিনিধি, কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষকদের সংগঠনের সমন্বয়ে প্যানেল গঠিত হবে। কিন্তু এখনো তা হয়নি।

ফেডারেল সরকারের এক সূত্র সম্প্রতি জানিয়েছে, সরকার প্যানেলের জন্য কৃষকদের কাছে তাঁদের সদস্যদের নাম চেয়েছিল। কিন্তু কৃষকরা তা দিতে রাজি হননি। তাঁরা বলেছেন, সরকারের ‘উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয়। ’

এদিকে এত দিনে কৃষকদের ঐক্যতেও ভাঙন ধরেছে কিছুটা। কৃষক সংগঠনগুলোর অনেকেই কিছুদিন আগে হয়ে যাওয়া পাঞ্জাবের প্রাদেশিক নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন; কিন্তু জিততে পারেননি। উল্টো নির্বাচনে লড়ার এই প্রচেষ্টার কারণে কৃষক সংঘের মূল সংস্থা সাম্যুক্ত কিষান মোর্চা (এমকেএস) ৩২টি কৃষক ইউনিয়নের মধ্যে ২২টিকে বাতিল করেছে।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট যোগীন্দার সিং উগ্রাহান বলেন, ‘এটি নিশ্চিতভাবেই কৃষক ঐক্যে গুরুতর আঘাত হেনেছে। ’ তবে উগ্রাহান আশা হারাননি। তিনি বলেন, ‘একটি ফোন কল আসুক, আমি নিশ্চিত সবাই এক হয়ে যাবে। ...এটি অর্ধেক জেতা লড়াই এবং এই লড়াই এখনো চলছে। ’

সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা