kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

স্নেক আইল্যান্ড ছাড়ার পর ওডেসায় তীব্র হামলা

রুশ হামলায় দুই শিশুসহ ১৯ মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্নেক আইল্যান্ড ছাড়ার পর ওডেসায় তীব্র হামলা

ওডেসার সেরহিভকা শহরে রুশ হামলায় বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনে গতকালের উদ্ধারকাজ। ছবি : এএফপি

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর প্রথম দিনই কৃষ্ণ সাগর এলাকায় দেশটির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ স্নেক আইল্যান্ড দখল করে নিয়ে নানা উপায়ে সেটিকে কাজে লাগাচ্ছিল মস্কো। সেই দ্বীপের দখল ছেড়ে দিতে না দিতেই ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসায় তীব্র হামলা শুরু করেছে রুশ বাহিনী।

স্নেক আইল্যান্ড দখলের চার মাস পর গত বৃহস্পতিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, স্নেক আইল্যান্ড থেকে তারা সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে নৌবাহিনীর দুটি জাহাজে করে স্নেক আইল্যান্ড ত্যাগ করে রুশ সেনারা।

বিজ্ঞাপন

তাদের অন্য কোথাও মোতায়েন করা হবে বলে জানায় রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

ইউক্রেনের দাবি, তাদের বোমাবর্ষণের জেরে রুশ বাহিনী স্নেক আইল্যান্ড পরিত্যাগ করেছে। তবে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনে আটকে থাকা শস্য আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিতে সহযোগিতা করতে জাতিসংঘের আহ্বানের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কৌশলগতভাবে স্নেক আইল্যান্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেন, যদি রুশ বাহিনী তার মোট সামরিক শক্তির অর্ধেক এই দ্বীপ এবং এর আশপাশে মোতায়েন করে, সে ক্ষেত্রে কৃষ্ণ সাগরের পুরো উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল রাশিয়ার দখলে চলে যাবে।

ইউক্রেন যুদ্ধে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ছেড়ে দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন দাবির মধ্যেই ওডেসা অঞ্চলে হামলা চালায় রুশ বাহিনী। হামলায় দুই শিশুসহ অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে রুশ বাহিনীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একটি অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং ও একটি বিনোদনকেন্দ্রে আঘাত করলে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ওডেসার কৃষ্ণ সাগর সংলগ্ন বন্দর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে সেরহিভকা শহরে এ ঘটনা ঘটে।

ইউক্রেনে জরুরি সেবা দপ্তরের প্রধান সেরগি ক্রুক ফেসবুকে মৃতের তথ্য নিশ্চিত করে আরো জানান, আহত হয়েছে ৩৮ জন, যাদের মধ্যে ছয়টি শিশুও আছে।

ওডেসার সামরিক প্রশাসনের মুখপাত্র সেরগি ব্রাত্চুক জানান, কৃষ্ণ সাগর থেকে উড়ে আসা একটি বিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে। তবে ওডেসায় হামলার ব্যাপারে রুশ কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কিছু জানায়নি।

এদিকে ইউক্রেনের দনবাস হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে লুহানস্ক প্রদেশের পূর্ণাঙ্গ দখল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লিসিচান্সক শহরে অবিরাম গোলাবর্ষণ করে যাচ্ছে রুশ বাহিনী। লুহানস্কে পূর্ণ দখল নিশ্চিত করার পথে এটাই শেষ বাধা। রুশ বাহিনীর অব্যাহত হামলার বিপরীতে ইউক্রেনীয় বাহিনী এখনো নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

‘বিশেষ সামরিক অভিযানের’ অংশ হিসেবে কিয়েভ দখলের প্রাথমিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর দনবাস দখলে পূর্ণ মনোযোগ দেয় রাশিয়া। লক্ষ্য অর্জনে অনেকটাই এগিয়ে গেছে তারা। দনবাসের বৃহত্তম শহর সেভেরোদোনেত্স্ক এরই মধ্যে রুশ বাহিনীর দখলে। ওই অঞ্চলে লক্ষ্য অর্জনে ধীরগতিতে এগোতে থাকা রুশ বাহিনী এখন জোর লড়াই চালাচ্ছে লিসিচান্সকে। সেই সঙ্গে তারা ওডেসায় তীব্র হামলা শুরু করেছে।

জেলেনস্কির বার্তা পুতিনকে পৌঁছে দিলেন উইদোদো : যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেন ও রাশিয়া যে শান্তি আলোচনা শুরু করেছিল, সেটায় অচলাবস্থার মধ্যে মস্কোয় পৌঁছেছে নতুন বার্তা।

গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। জেলেনস্কির লেখা বার্তা তিনি নিজে পুতিনের হাতে তুলে দেন। মস্কো সফরকালে একই সঙ্গে উইদোদো জানান, তাঁর দেশ শিগগিরই ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায় এবং এ লক্ষ্যে দুই দেশের নেতার মধ্যে আলোচনা শুরুর ব্যাপারে সহায়তা করতেও আগ্রহী। এর আগে বুধবার কিয়েভ সফরে গিয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন উইদোদো। সূত্র : এএফপি

 

 



সাতদিনের সেরা