kalerkantho

মঙ্গলবার। ৯ আগস্ট ২০২২ । ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১০ মহররম ১৪৪৪

হংকংয়ে গণতন্ত্র আছে তো?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হংকংয়ে গণতন্ত্র আছে তো?

শি চিনপিং

হংকংয়ের গণতন্ত্র পরিস্থিতি নিয়ে চলছে কথার লড়াই। হংকংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সফর শেষ হওয়ার পরপরই অঞ্চলটির অধিবাসীরা বেইজিং সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে। সমালোচনা করেছেন তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রীও।

চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল বলে পরিচিত হংকংয়ের বাসিন্দা ও আইনসভার সাবেক নেতারা মনে করেন, শি চিনপিংয়ের সফরের মধ্য দিয়ে বেইজিং নিয়ন্ত্রণবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে চীনের কথিত বিচ্ছিন্ন ভূমি তাইওয়ান দাবি করেছে, চীনা নিয়ন্ত্রণের কারণে হংকংয়ের গণতন্ত্র অদৃশ্য হয়ে গেছে।

আগের দিন শুরু হওয়া চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের হংকং সফর গতকাল শুক্রবার শেষ হয়েছে। এরপর তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী সু সেং-চ্যাং গতকাল দাবি করেছেন, চীনা নিয়ন্ত্রণে হংকংয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অদৃশ্য হয়ে গেছে।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশরাজ কর্তৃক হংকংকে চীনের কাছে হস্তান্তরের ২৫ বছর পূর্তি এবং অঞ্চলটির প্রধান নির্বাহী জন লির অভিষেক অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেখানে যান চীনের রাষ্ট্রপ্রধান। এ সময় ‘সংঘাত ও সামাজিক অস্থিরতা’ কাটিয়ে ওঠার জন্য হংকংয়ের প্রশংসা করেন তিনি। অঞ্চলটির উন্নতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ সুরক্ষা’ তাঁর কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

চিনপিংয়ের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী সেং-চ্যাং বলেন, ‘হংকং খারাপ রয়েছে না ভালো রয়েছে, তা জানতে হংকংয়ের মানুষ যে কষ্টের মধ্যে রয়েছে, তা দেখতে হবে। ’

হংকংয়ে ২০১৯ সালে অধিকতর গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। গণতন্ত্রপন্থীদের বিক্ষোভ দমনে বল প্রয়োগ এবং গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করে বেইজিং। ২০২০ সালে হংকংয়ের ওপর বিতর্কিত জাতীয় নিরাপত্তা আইন চাপিয়ে দেয় তারা।

হস্তান্তরের সময়কার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, হংকংয়ের বিশেষ স্বায়ত্তশাসন সুবিধা ৫০ বছর পর্যন্ত বজায় থাকার কথা। অথচ মাত্র ২৩ বছরের মাথায় ওই অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত বলবৎ হয়েছে। হংকংবাসীর অভিযোগ, নিরাপত্তা আইন স্বশাসনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোও একই অভিযোগ করে আসছে।

এ বিষয়ে হংকং ব্যাপ্টিস্ট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানী কেনেথ চ্যান বলেন, ‘শির বক্তব্য ও ভাষা জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাসের পরের বার্তাকে পুনর্ব্যক্ত করেছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বেইজিং অনুগতদের দ্বারা হংকংয়ের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তৈরির চেষ্টা করছে। ’

ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের সময় পূর্ণ গণতন্ত্র ছিল না, এমনটি স্বীকার করার পর হংকংয়ের চীনবিরোধী সাবেক আইন প্রণেতা ও বর্তমানে নির্বাসিত নেতা টেড হুই বলেন, ‘এখন আমরা গণতন্ত্রের আনুষ্ঠানিকতা এবং উপাদান উভয়ই হারিয়েছি, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা আইন পাসের পর। ’

তাইওয়ান এবং হংকং অঞ্চলকে চীনের মূল ভূখণ্ডের শাসক চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিসি) নিজেদের জন্য বেশ স্পর্শকাতর ইস্যু মনে করে। তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলোর কাছে একই মূল্যায়ন আশা করে তারা। পাশাপাশি হংকং নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক উদ্বেগকেও ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে না তারা।

হংকংয়ের গণতন্ত্র নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে অঞ্চলটির শাসন কাঠামো নিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বেইজিংপন্থী বলে পরিচিত জন লি। সফর শেষে চিনপিংকে বিদায় দেওয়ার পর অঞ্চলটির নতুন নির্বাহী প্রধান লি বলেন, শির মন্তব্য ‘খুবই স্পষ্ট এবং খুবই দৃঢ়। ’ লির দাবি, ব্রিটিশরাজ এবং চীনের মধ্যে প্রতিশ্রুত ‘এক দেশ দুই নীতি’র ভিত্তিতে হংকংয়ের শাসন কাঠামো বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। সূত্র : এএফপি, টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

 



সাতদিনের সেরা