kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

অসলোতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২, আহত ২০

সন্দেহভাজন আটক

স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



অসলোতে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ২, আহত ২০

নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বন্দুকধারীর হামলায় হতাহতদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। ছবি : এএফপি

নরওয়ের রাজধানী অসলোর একটি বারে বন্দুকধারীর গুলিতে দুজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি আহত হয়েছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছে অসলোর পুলিশ। এ ঘটনায় ৪২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ হামলাকে ‘ইসলামী সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে দেখছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে।

অসলো পুলিশের মুখপাত্র টোরে বারস্টাড গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাত ১টা ১৪ মিনিটে গুলি চালানোর খবরটি পুলিশ প্রথম জানতে পারে। তার কয়েক মিনিট পরই পুলিশ অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে পার্শ্ববর্তী এক সড়ক থেকে গ্রেপ্তার করে।

লন্ডন পাব নামের এক পানশালার বাইরে হের নিয়েলসন জ্যাজ ক্লাবের কাছে ও অন্য একটি পানশালার বাইরে ওই গুলির ঘটনা ঘটে। লন্ডন পাব জায়গাটি জনপ্রিয় সমকামী ভেন্যু হিসেবে পরিচিত ছিল। গত সপ্তাহে অসলোতে সপ্তাহব্যাপী সমকামীদের প্রাইড-উদযাপন হয় এবং ২৫ জুন শনিবার বার্ষিক প্রাইড-কুচকাওয়াজের পরিকল্পনা করা হয়। গুলির ঘটনার পর অসলোর বার্ষিক গে প্রাইড আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। প্রাইড অর্গানাইজারের প্রেস ম্যানেজার রোহান স্যান্ডেমো ফার্নান্দো সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন যে সংগঠনটি গত রাতের ঘটনার পরে সংকট মোকাবেলার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কর্মীদের দায়িত্ব দিয়েছেন।

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর ঘটনাটিকে ‘নিষ্ঠুর ও গভীরভাবে হৃদয়বিদারক’ বলে অভিহিত করেছেন।

ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য মতে, গুলির শব্দে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করে এবং নিমিষেই এলাকাটি জনশূন্য হয়ে পড়ে।

নরওয়ের পিএসটি গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্যানুসারে, গ্রেপ্তার ব্যক্তি ২০১৫ সাল থেকে নিরাপত্তা সেবাগুলোর কাছে ‘সন্দেহভাজন উগ্রবাদী ইসলামিস্ট’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁর মানসিক অসুস্থতার রেকর্ডও রয়েছে।

নরওয়ের জাতীয় পত্রিকা ভিজির সঙ্গে আলাপকালে একজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী বলেন, ‘আমি জীবনেও এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হইনি। গুলির আওয়াজ পেয়ে যখন আমি দৌড়ে বারের ভেতরে যাই, দেখতে পাই গুলিবিদ্ধ আহত ব্যক্তিরা মেঝেতে পড়ে আছে। আহত অবস্থায় অনেকে লুকিয়ে আছে এখানে-সেখানে। মানুষ কাঁদছে, মানুষ শোকে বধির হয়ে দাঁড়িয়ে কাঁপছে, কেউ কেউ চিৎকার করছে পাগলের মতো। ঘটনাস্থলটি একটি রণক্ষেত্রের মতো মনে হয়েছে। ’ সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা