kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

সেভেরোদনেৎস্কের পতন কী অর্থ বহন করে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেভেরোদনেৎস্কের পতন কী অর্থ বহন করে

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত সেতু। ছবি : এএফপি

চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের চেয়েও রাশিয়ার কাছে সেভেরোদনেত্স্ক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতীকী বলে জানিয়েছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। শহরটি থেকে ইউক্রেনের সেনা সরে আসার সিদ্ধান্তকে ‘সামান্য ক্ষতি’ হিসেবে দেখছেন স্বয়ং ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক উপপ্রধান ইহর রোমানেংকো। কিন্তু রাশিয়ার দিক থেকে এই চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। সেভেরোদনেত্স্ক পেতে যেন একরকম মরিয়া হয়ে ছিল ক্রেমলিন আগে থেকেই।

বিজ্ঞাপন

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, কেন এতটা উদগ্রীব রাশিয়া। উত্তরও অনেকটাই পরিষ্কার। নিজ দেশের পূর্বাঞ্চলে যে কয়েকটি জায়গা ইউক্রেনের দখলে রয়েছে, তার মধ্যে সেভেরোদনেত্স্ক অন্যতম। এটির নিয়ন্ত্রণ পেলে গোটা লুহানস্কের নিয়ন্ত্রণ অনেকটাই চলে যাবে রুশদের হাতে। বাকি থাকবে শুধু লিসচ্যানস্ক শহরটি।

রোমানেংকোর বলেন, ‘সেভেরোদনেত্স্ক রুশদের জন্য ভূ-রাজনৈতিক উপাদান, এটি এখনো অনধিকৃত লুহানস্কের একটি ডিস্ট্রিক্ট সেন্টার। আমরা এটি ছাড়াও টিকতে পারব। সামরিক দিকটি নিয়েই বেশি আগ্রহী আমরা। ’

তিনি আরো জানান, রাশিয়ার জন্য লুহানস্কের বিজয় এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে মস্কো নিজেদের সেনাদের দক্ষিণের খেরসন এবং আংশিক অধিকৃত ঝাপোরিঝিয়া থেকে সরিয়ে এ অঞ্চলে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল। অথচ খেরসন ও ঝাপোরিঝিয়াতে অগ্রগতি হচ্ছে ইউক্রেনের বাহিনীর।

প্রায় একই রায় দিয়েছে মার্কিন থিংকট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর ওয়ার’। সংস্থাটি বলছে, ‘ইউক্রেনের কোনো অঞ্চল রাশিয়া দখল করে নিলে যতটা ক্ষতি, সেভেরোদনেত্স্ক হাতছাড়া হয়ে যাওয়াটাও তাদের জন্য সেটুকুই ক্ষতির, তবে সেভেরোদনেেস্কর যুদ্ধ রাশিয়ার বিজয়ের জন্য চূড়ান্ত কোনো বিষয় নয়। ’

সেভেরোদনেত্স্ক দখলে নিতে গিয়ে রাশিয়ার ক্ষয়ক্ষতি কম হয়নি। শহরটি যে ‘সিভারস্কি দনেতস’ নদীর ওপর দাঁড়িয়ে, তা কয়েকবার পার হতে গিয়ে জনবল ও সাঁজোয়া যানের ব্যাপক ক্ষতি সহ্য করতে হয়েছে রাশিয়াকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেভেরোদনেেস্কর পতনের পেছনে মূলত ভূমিকা রেখেছে রাশিয়ার গোলাবর্ষণের সক্ষমতা।  

মস্কো একাধিক রকেট লঞ্চার, বম্বার, এমনকি পুরনো আমলের টোচকা ইউ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত ছুড়েছে সেভেরোদনেেস্ক। তবে এত কিছুর পরও পুরো লুহানস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যাপারটি আখেরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রত্যাশিত বিজয় এনে দিতে পারবে না বলে মনে করা হচ্ছে।

এখনো দনেেস্কর দুই-পঞ্চমাংশ এলাকা ইউক্রেনের বাহিনীর দখলে রয়ে গেছে। ইউক্রেনের এই বাহিনীর হাতে আগে থেকেই রয়েছে নানা ধরনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। ২০১৪ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা দনেেস্কর এক-তৃতীয়াংশ নিজেদের দখলে নিয়ে যাওয়ার পর সেগুলো তৈরি করেছিল তারা। ফলে লুহানস্কের দখল নেওয়ার চেয়ে দনেৎস্কের দখল নেওয়া আরো অনেক বেশি কঠিন হবে রুশ বাহিনীর জন্য। সূত্র : আলজাজিরা



সাতদিনের সেরা