kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

পশ্চিমা স্বার্থপরতাই চলতি সংকটের কারণ : পুতিন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৪ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পশ্চিমা স্বার্থপরতাই চলতি সংকটের কারণ : পুতিন

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেমলিনের ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার জেরে বিশ্ব যখন নানামুখী সংকটে খাবি খাচ্ছে, তখন সম্মেলনে অংশ নিলেন গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ দেশীয় জোট ব্রিকসের নেতারা। আর এই সম্মেলনে জোটের অন্যতম সদস্য রাশিয়া চলমান সংকটের জন্য পশ্চিমাদের ‘স্বার্থপর’ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছে এবং তা মোকাবেলায় জোটের বাকি সদস্যদের সহযোগিতা চেয়েছে।

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার জোট ব্রিকস দুই দিনব্যাপী এ ভার্চুয়াল সম্মেলনে মিলিত হয়েছে। চীনে সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সম্মেলনটি শুরু হয়।

বিজ্ঞাপন

সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘নির্দিষ্ট কিছু রাষ্ট্রের দুর্বল ভাবনাপ্রসূত স্বার্থপর কর্মকাণ্ডের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, সেই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে চাইলে আমাদের সামনে একমাত্র পথ হলো সৎ ও পারস্পরিক কল্যাণমূলক সহযোগিতা। ’ সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে পুতিন আরো বলেন, ওই সব দেশ যে অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করছে, তাতে আসলে তারা গোটা বিশ্বের ওপর ‘নিজেদের ভুল চাপিয়ে দিচ্ছে’।

রুশ রাষ্ট্রপ্রধানের ভাষ্য, ‘আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আমরা এখন অনেক বেশি বিশ্বাস করি যে ব্রিকসভুক্ত দেশের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ ও ইতিবাচক পথ ধরে আন্ত সরকারি সম্পর্কের এক সত্যিকার বহুমেরুভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ’ এ ক্ষেত্রে পঞ্চদেশীয় এই জোট ‘স্বাধীন নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশের সমর্থন পাবে’ বলে মন্তব্য করেন পুতিন।

ব্রিকস সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণ দেন সভাপতিত্বকারী দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং। ভাষণের একেকটি পর্যায়ে তিনি একেক ধরনের বৈশ্বিক সংকটের প্রসঙ্গ আনেন এবং এসব সংকট মোকাবেলায় বিশ্ববাসীকে একসঙ্গে পথ চলার আহ্বান জানান।

সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধের কথা উল্লেখ না করে চিনপিং বলেন, ‘মর্মান্তিক অতীত থেকে আমরা জানি যে একাধিপত্য, বিভাজনের রাজনীতি ও জোটভিত্তিক দ্বন্দ্ব কখনো শান্তি বা নিরাপত্তা দিতে পারে না; এসবে কেবল যুদ্ধ আর সংঘাত সৃষ্টি হয়। তথাকথিত শক্তিশালী অবস্থানের ওপর অন্ধ বিশ্বাস আর সামরিক জোটের পরিধি বৃদ্ধির চেষ্টা এবং অন্যদের নিরাপত্তা বিসর্জন দিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথ খোঁজার মধ্য দিয়ে নিরাপত্তার সংকট ছাড়া আর কিছু দেয় না। ’ চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের মতে, জাতিসংঘ সনদের প্রতি সব দেশের অঙ্গীকারবদ্ধ থাকা এবং যুদ্ধের বেদনাদায়ক শিক্ষা মনে রেখে শান্তি বজায় রাখা জরুরি।

ভাষণে চিনপিং করোনাভাইরাস মহামারি, খাদ্য ও জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক সংকট প্রসঙ্গও আনেন। বিশ্বের ৭০টি দেশের ১২০ কোটি মানুষ এসব সংকটে জেরবার উল্লেখ করে তিনি এসব সংকট মোকাবেলায় যৌথভাবে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন। বিশ্বের বিভিন্ন উদীয়মান বাজার ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য ব্রিকস একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে বলেও মন্তব্য করে চিনপিং। সূত্র : এএফপি, সিনহুয়া

 

 



সাতদিনের সেরা