kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

টেক্সাসে গণগুলির ঘটনা

অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে চিঠি নিহত এক শিশুর বাবার

উচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সহিংসতার সম্পর্ক দাবি পুলিশের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ইউভালদে শহরে স্কুলে গণগুলির ঘটনায় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ড্যানিয়েল ডিফেন্সকে চিঠি পাঠিয়েছেন নিহত এক শিশুর বাবা। ওই চিঠি পাঠানোর ঘটনা মামলায় রূপ নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

ইউভালদের রব এলিমেন্টারি স্কুলে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ওই গণগুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২১ জন, যার মধ্যে ১৯ জনই শিশু। ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র যিনি বানিয়েছেন, সেই ড্যানিয়েল ডিফেন্সকে চিঠি দিয়েছেন নিহত এক শিশুর বাবা আলফ্রেড গার্জার আইনজীবীরা।

বিজ্ঞাপন

ওই চিঠিতে জানতে চাওয়া হয়েছে, শিশু ও কিশোরদের কাছে ড্যানিয়েল ডিফেন্স কিভাবে বিপণন করে থাকে।

তথ্য চেয়ে ওই চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘এটি সংগ্রহের লক্ষ্যে আলফ্রেড গার্জাকে মামলা করতে বাধ্য করার পরিবর্তে আমরা আপনাদের এখনই তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করছি। ’ এখন পর্যন্ত ওই বন্দুক হামলার ঘটনায় ড্যানিয়েল ডিফেন্সের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।

জর্জিয়াভিত্তিক অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ড্যানিয়েল ডিফেন্স তাৎক্ষণিকভাবে এ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেনি। ১৮ বছর বয়সী বন্দুকধারী সালভাদর রামোস ২৪ মে স্কুলে হামলা চালায়। নিজের ১৮তম জন্মদিনে গত ১৭ মে বৈধভাবে ওই অস্ত্র কেনে সে।

গার্জার আইনজীবী জশ কসকফ এর আগে ২০১২ সালে ঘটে যাওয়া স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলের গণগুলির ঘটনার মামলার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সে মামলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সমঝোতা করেছে অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেমিংটন। কোনো অস্ত্র নির্মাতার বিরুদ্ধে মামলায় এটিই প্রথম উল্লেখযোগ্য সমঝোতা। কারণ অস্ত্র নির্মাতাদের মামলার হাত থেকে সুরক্ষিত রাখার মতো ফেডারেল আইন রয়েছে।

বর্তমান অনুসন্ধানে আগের মামলা থেকে শেখা বিদ্যা কাজে লাগাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন কসকফ। ইউভালদের বন্দুকধারী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হত্যাকারী কার্যত ১৮ বছর বয়সে পা রাখার দিনই জানত কোন অস্ত্রটি সে নিচ্ছে। ’

পৃথক আরেক আইনি পদক্ষেপে টেক্সাস অঙ্গরাজ্য আদালতে নথি দাখিল করেছেন স্কুলের কর্মী এমিলিয়া মারিন। আদালতের কাছে ড্যানিয়েল ডিফেন্সের সাক্ষ্য নেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানকে বিপণন সম্পর্কিত নথি হস্তান্তরে বাধ্য করার আদেশ জারির আবেদন করেছেন তিনি।

গরমের সঙ্গে সহিংসতার সম্পর্ক

এদিকে মার্কিন পুলিশ বিভাগের দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত দাবি হলো, গরমের সময় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে যায়। ঠিক এই বিষয় নিয়েই গবেষণা করেছেন হার্ভার্ডের অধ্যাপক ও গবেষক ডেভিড হেমেনওয়ে। তিনি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন পুলিশের ওই দাবি যথার্থ কি না।

নিজ শিক্ষার্থী পল রিপিংয়ের সঙ্গে মিলে ২০২০ সালে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তিনি। ওই গবেষণায় দেখা যায়, স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রার সঙ্গে কর্মদিবসে ৩৪ শতাংশ বেশি গোলাগুলির ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে, আর সপ্তাহান্ত বা ছুটির দিনের সঙ্গে ৪২ শতাংশ বেশি গুলির ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকরা আরো জানতে পারেন, গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি তাপমাত্রার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে ৩৩.৮ শতাংশ বেশি গোলাগুলির ঘটনার। সূত্র : বিবিসি, এএফপি

 

 



সাতদিনের সেরা