kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ কত দিন টিকবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউক্রেনীয়দের প্রতিরোধ কত দিন টিকবে

প্রতিদিনই শত শত নতুন কবর খুঁড়ে তাতে স্বজন কিংবা সহকর্মীদের রেখে আসছে ইউক্রেনীয়রা। চিরতরে বিদায় নেওয়া সেই সব মানুষের মধ্যে থাকছেন কমপক্ষে অর্ধশতাধিক সেনা সদস্য। খোদ প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে প্রতিদিন ইউক্রেনীয় ৬০-১০০ সেনার মৃত্যু হচ্ছে। এভাবে জনবল হারালে কত দিন ইউক্রেনীয়রা প্রতিরোধ ধরে রাখতে পারবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল ভিক্টর মুঝেংকো বলেন, ‘যুদ্ধের অত্যন্ত সংকটজনক একটি অধ্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমরা, তবে এই সংকটই সবচেয়ে বড় নয়। এ কথায়ই বোঝা যায়, ক্ষতির পরিমাণটা কত বড়। প্রাণক্ষয় কমাতে ইউক্রেনের এখন এমন অস্ত্র দরকার, যেগুলো শক্তিতে রুশ অস্ত্রের সমান এমনকি আরো বেশি। তাহলে ইউক্রেন সমানে সমান জবাব দিতে পারবে। ’ তা না হলে সেনা মৃত্যুর হার বাড়তে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।

ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক কমান্ডিং অফিসার অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস ইউক্রেনে রুশ অভিযানের কৌশল সম্পর্কে বলেন, রুশ বাহিনী মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেন যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন মিত্র দেশের প্রতিশ্রুত অস্ত্র না পাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধকবলিত দেশটিতে হতাহতের বর্তমান হার অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেন সাবেক এ মার্কিন সেনা কর্মকর্তা। তিনি আরো বলেন, ‘২০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা ইরাক ও আফগানিস্তানে যে পরিস্থিতি দেখে এসেছি, তাতে এত বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এই (ইউক্রেন) যুদ্ধক্ষেত্রটা ইরাক-আফগানিস্তানের পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি প্রাণঘাতী। ’ ইউক্রেন যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া সেনা কর্মকর্তারাও মারা পড়ছেন, কারণ যুদ্ধক্ষেত্রে একেবারে সামনের সারিতে থেকে তাঁদের অনেক কাজ করতে হচ্ছে, বলেন লে. জেনারেল হজেস।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীতে সেনা সংখ্যা ছিল আড়াই লাখ। যুদ্ধ শুরুর পর আরো এক লাখ নতুন অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেয় সরকার। তথ্য বলতে এতটুকুই। কিন্তু ইউক্রেন কিংবা রাশিয়া কত সেনা হারিয়েছে, সেটার সঠিক হিসাব পাওয়া দুষ্কর। কারণ এ ব্যাপারে যেকোনো পক্ষের দেওয়া হিসাব যাচাই করার কোনো উপায় নেই। বিশ্লেষকরা অবশ্য ধারণা করছেন, রাশিয়া এরই মধ্যে কয়েক হাজার সেনা খুইয়েছে।

যুদ্ধে দুই পক্ষের জন্যই যেটা সমান গুরুত্বপূর্ণ, সেটা হলো নিহত সেনাদের শূন্যস্থান দ্রুত পূরণ করা। অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক কেনসিয়ান বলেন, ‘যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তবে আপনাকে শূন্যস্থান পূরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ’ বর্তমানে ওয়াশিংটনে সেন্টার অর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের উপদেষ্টা কেনসিয়ান আরো বলেন, ‘যুদ্ধে প্রতিটি সেনাবাহিনীর জন্যই এটা গুরুত্বপূর্ণ সময়। ’

সেভেরোদোনেত্স্ক পরিস্থিতি : ইউক্রেনের দনবাস খ্যাত অঞ্চলের বৃহত্তম শহর সেভেরোদোনেত্স্ক নিয়ে নতুন খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। লুহানস্কের গভর্নর সেরগি গাইদে গত সপ্তাহে জানান, শহরটির প্রায় ৮০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ রুশ বাহিনীর হাতে চলে গেছে। কিন্তু গতকাল জানা যায়, সেভেরোদোনেত্স্কর কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। এদিকে গোটা দনবাসে পদাতিক বাহিনীর হামলার পাশাপাশি বিমান হামলা বাড়িয়েছে রুশ বাহিনী।

সূত্র : এএফপি, এপি, বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা