kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

সতর্ক শব্দে চার নেতার যৌথ বিবৃতি

চীনের ‘জবরদস্তি’ সহ্য করবে না কোয়াড

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনের ‘জবরদস্তি’ সহ্য করবে না কোয়াড

কোয়াড বৈঠকের আগে অ্যান্থনি আলবানিজি (বাঁয়ে), পাশে জো বাইডেন, এরপর ফুমিও কিশিদা ও নরেন্দ্র মোদি (ডানে)। ছবি : এএফপি

অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা চীনের বিরুদ্ধে বাছা বাছা শব্দে সতর্কবার্তা দিয়েছেন কথিত কোয়াড জোটের নেতারা। সরাসরি চীনের নাম উল্লেখ না করে তাঁরা বলেছেন, বল প্রয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালালে কোয়াড নেতৃত্ব তা মেনে নেবে না।

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র মিলে কোয়াড শীর্ষক জোট গঠন করে। চীনকে প্রতিহত করার লক্ষ্যে গঠিত এ জোটের নেতারা গতকাল মঙ্গলবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে মিলিত হন।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা আমাদের যৌথ ইতিহাসের এক অন্ধকার সময় পাড়ি দিচ্ছি। ’ তাঁর ভাষ্য, ‘ইউক্রেনে যুদ্ধ এখন বৈশ্বিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষার গুরুত্বের ওপর জোর দিচ্ছে। ’

একইভাবে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেন, ‘ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলার মৌলিক নীতিতে আঘাত করেছে। এ অবস্থায় আমরা নিশ্চিত করছি, বিশ্বের কোথাও, বিশেষ করে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতাবস্থা একতরফাভাবে বলপূর্বক পরিবর্তনের চেষ্টা করা হলে তা সহ্য করা হবে না। ’

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে রাশিয়ার নাম এলেও কোয়াডের যৌথ বিবৃতিতে সতর্কভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয় রাশিয়া বা চীনের নাম। পরোক্ষভাবে চীন ও রাশিয়ার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এতে বলা হয়, ‘এ অঞ্চলে স্থিতাবস্থা পরিবর্তন করতে এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে—এমন যেকোনো নিপীড়নমূলক, উসকানিমূলক বা একতরফা কর্মকাণ্ডের তীব্র বিরোধিতা করছি আমরা। ’

‘চীন-তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র আগের অবস্থানেই আছে’ : গত সোমবারই বাইডেন চীনকে তাইওয়ান ইস্যুতে ‘বিপদ নিয়ে খেলার’ ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, চীন হামলা চালালে তাইওয়ানকে সামরিকভাবে সুরক্ষা দেবে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ গতকাল চীনের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে পরিবর্তন এসেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কৌশলগত দ্ব্যর্থতায়’ কোনো পরিবর্তন আসেনি।

কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র চীনকে কূটনৈতিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে আসছে, একই সঙ্গে তাইওয়ানের সঙ্গেও সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে। চীন যেন যুদ্ধ ঘোষণা না করে এবং তাইওয়ান যেন নিজেদের স্বাধীন ঘোষণা না করে, এ ব্যাপারে কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্প্রতি চীনের বিভিন্ন সামরিক তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে তাইওয়ান নিয়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিতণ্ডা চরমে উঠেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানকে সামরিকভাবে রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে চীন যেকোনো মূল্যে ওই ভূখণ্ডকে নিজেদের সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

সর্বশেষ গতকাল কোয়াড বৈঠকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে বাইডেন বলেন, ‘আমাদের বৈঠক স্বৈরতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র নিয়ে এবং আমরা যেন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারি তা নিশ্চিত করতে এ বৈঠক হচ্ছে। ’

কোয়াডের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়াতে সমুদ্রে নতুন একটি পর্যবেক্ষণ উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অবকাঠামো ও বিনিয়োগ খাতে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সূত্র : এএফপি, সিএনএন



সাতদিনের সেরা