kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

অর্থনৈতিক সংকট

খেলাপি হলো শ্রীলঙ্কা

♦ ঋণ শোধ শুরু হতে লাগবে আরো ছয় মাস
♦ মুদ্রাস্ফীতি ৩০%, আরো বাড়তে পারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলাপি হলো শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল কলম্বোতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের কানেস্তারা পুলিশের দিকেই ফেরত পাঠায় এক বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী। ছবি : এএফপি

গত ৭০ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটে পড়া শ্রীলঙ্কা তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে ঋণখেলাপি হয়েছে। এদিকে বিরাজমান চরম জ্বালানিসংকটের কোনো সুরাহা না হওয়ায় আজ শুক্রবার থেকে স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদেরও আজ থেকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে।

জরিমানা ছাড়া দেনার সুদ পরিশোধের চূড়ান্ত ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের সময়সীমা ছিল বুধবার।

বিজ্ঞাপন

এদিন সাত কোটি ৮০ লাখ ডলার পরিশোধ করার কথা ছিল। দিনটি অতিবাহিত হওয়ার পর শ্রীলঙ্কা আনুষ্ঠানিকভাবে খেলাপি হয়।

ঋণখেলাপি হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পি নন্দলাল বীরাসিংহে জানান, ঋণ পরিশোধ শুরু করতে তাঁদের আরো ছয় মাস সময় লাগবে। বহির্বিশ্বের পাঁচ হাজার ১০০ কোটি ডলার ঋণ পুনর্গঠন না হলে ঋণ পরিশোধ করা যাবে না। গভর্নর বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ঋণদাতাদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছব। ’  

ঋণখেলাপি বলে বিবেচিত হওয়ায় বহির্বিশ্বে নতুন ঋণ পেতে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশের মুদ্রা ও অর্থনীতির ওপর আস্থা নষ্ট হয়।

শ্রীলঙ্কা এখন ঋণখেলাপি কি না—এ প্রশ্ন করা হলে পি নন্দলাল বীরাসিংহে বলেন, ‘আমাদের অবস্থান খুব স্পষ্ট। আমরা বলছি, যতক্ষণ না তারা ঋণ পুনর্গঠন করবে, ততক্ষণ আমরা পরিশোধ করতে পারব না। কাজেই এটা এক ধরনের খেলাপি। ’

গভর্নর সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘এরই মধ্যে খুব উচ্চমাত্রায় ওঠা মুদ্রাস্ফীতি সামনে আরো বাড়তে পারে। মুদ্রাস্ফীতি স্পষ্টত ৩০ শতাংশের মতো। এটি আরো বাড়বে, সার্বিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি আগামী দুই মাসে ৪০ শতাংশে পৌঁছবে। ’

করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে বিপর্যয়, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং কর অব্যাহতির মতো জনতুষ্টিকরণ নীতি শ্রীলঙ্কাকে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে ফেলেছে। বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতিতে আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওষুধ, জ্বালানি ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীর ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

গতকাল ঘোষণা দেওয়া হয়, জ্বালানিসংকটের কারণে আজ থেকে স্কুল বন্ধ থাকবে। সরকারি চাকরিজীবীদেরও আজ থেকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। কয়েকটি জ্বালানি স্টেশনের সামনে গতকালও কয়েক মাইল দীর্ঘ সারি ছিল। রাস্তায় খুব অল্পসংখ্যক ট্যাক্সি চলাচল করেছে।    

শ্রীলঙ্কা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে জরুরি সহায়তা (বেইলআউট) পেতে আলোচনা করছে। কথিত ঐকমত্যের সরকারে কোনো অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণ না করায় দৃশ্যত এ আলোচনায় গতি নেই। শপথ নেওয়ার পর থেকে ‘ঐক্যবদ্ধ মন্ত্রিসভা’ গঠন করতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বিক্রমাসিংহে। কিন্তু মন্ত্রিসভায় রাজাপক্ষে পরিবারের দল এসএলপিপির চার সদস্যের বাইরে কারো নাম শোনা যায়নি।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর বলছেন, অর্থমন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া এবং গত সপ্তাহে সহিংসতায় ৯ জন নিহত হওয়ার কারণে ঋণদাতা এবং আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। সূত্র : বিবিসি ও এএফপি



সাতদিনের সেরা