kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

মারিওপোলে ইউক্রেনের প্রতিরোধ শেষ

♦ যুদ্ধের দৈনন্দিন পরিচালনায় নিজে যুক্ত হয়েছেন পুতিন
♦ আবারও নিজ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মারিওপোলে ইউক্রেনের প্রতিরোধ শেষ

মারিওপোলের অবরুদ্ধ আজভস্তাল কারখানা কমপ্লেক্স থেকে মুক্ত ইউক্রেনীয় সেনাদের দেহ তল্লাশি করেন রুশপন্থী সেনা সদস্যরা। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে গতকাল এ ছবি পাওয়া যায়। ছবি : এএফপি

মারিওপোল শহরে প্রতিরোধের শেষ ঘাঁটি আজভস্তাল ইস্পাত কারখানা ত্যাগ করেছে কয়েক শ ইউক্রেনীয় সেনা। গত সোমবার ২৬০ জনেরও বেশি যোদ্ধাকে পাশের রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের রুশ যুদ্ধবন্দিদের সঙ্গে বিনিময় করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কিছু মানুষ কারখানাটিতে আটকা পড়ে ছিল।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের উদ্ধারে প্রচেষ্টা চলছে।

দক্ষিণ ইউক্রেনের বন্দরনগরী মারিওপোলের বাকি অঞ্চল আগেই রাশিয়ার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। শুধু বিশাল ও সুরক্ষিত আজভস্তাল ইস্পাত কারখানায় অবস্থান নেওয়া কয়েক শ ইউক্রেনীয় সেনা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছিল। অব্যাহত রুশ অবরোধ ও নিরন্তর হামলায় তারা অস্ত্র ও খাদ্য-পানীয়ের অভাবে ধুঁকছিল। কারখানার ভেতরের ভূগর্ভস্থ কক্ষ ও সুড়ঙ্গে আশ্রয় নিয়েছিল হাজারখানেক বেসামরিক লোকও। ইউক্রেনীয় বাহিনী বলেছে, সেখানে সেনাদের মিশন শেষ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেছেন, মারিওপোলের প্রতিরক্ষাকারীরা ৮২ দিন জায়গাটি ধরে রেখে ‘যুদ্ধের পথ পরিবর্তন করে দিয়েছেন’। তিনি জানান, আজভস্তাল থেকে বাকি মানুষকে বের করে আনার আলোচনা কঠিন ছিল। কিন্তু আশা করছেন তাঁরা এতে সফল হবেন।

পোদোলিয়াক আরো বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পূর্ণ শান্তি আলোচনা কার্যত ‘থমকে’ রয়েছে।

আজভস্তাল থেকে বের হওয়া ইউক্রেনীয় সেনাদের ব্যাপারে ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘তাদের সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে মূল্যায়ন করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। ’ 

এদিকে পশ্চিমা একাধিক সূত্র বলেছে, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধের দৈনন্দিন পরিচালনা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। তিনি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা সাধারণত আরো নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারা নিয়ে থাকেন। প্রসঙ্গত, সেনা কর্মকর্তাদের ‘অদক্ষতা ও ব্যর্থতার’ মুখে অনেক উচ্চপদস্থ রুশ সেনা কর্মকর্তা প্রত্যক্ষ রণাঙ্গনে গেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ জন রুশ জেনারেল যুদ্ধে নিহতও হয়েছেন, যা অস্বাভাবিক।

ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে ন্যাটোতে চায় না তুরস্ক

এদিকে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে নিজ অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ দুটিকে ‘সন্ত্রাসী কুর্দিদের’ আশ্রয়দাতা আখ্যা দিয়ে তাদের ন্যাটো জোটের সদস্য করার বিষয়ে বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

ন্যাটো জোটে নতুন কাউকে সদস্য করতে হলে এর ৩০ সদস্যের সবার সম্মতি প্রয়োজন। তুরস্ক পরোক্ষভাবে এর বিরোধিতা জানানোয় সোমবার সুইডেন দেশটিকে বোঝাতে প্রতিনিধি পাঠানোর কথা ঘোষণা করেছিল। সেদিনই এর কয়েক ঘণ্টা পরে এক সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, ফিনিশ ও সুইডিশদের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছে তাঁর দেশ। এরদোয়ান বলেন, তুরস্ককে রাজি করানোর লক্ষ্যে স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ দুটির কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

তুরস্ক ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দেশটির সম্মতি ছাড়া সুইডেন ও ফিনল্যান্ড সামরিক জোটটিতে যোগ দিতে পারবে না। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মতে, দেশ দুটি কুর্দি উগ্রবাদীদের ঠাঁই দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান জানান, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের ব্যাপারে আপত্তি জানাচ্ছে তুরস্ক। এ সময় তিনি সুইডেনকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের লালনক্ষেত্র (হ্যাচারি)’ হিসেবে অভিহিত করেন। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এ দেশগুলোর কোনোটিরই সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে পরিষ্কার ও মুক্ত কোনো মনোভাব নেই। আমরা কিভাবে তাদের বিশ্বাস করতে পারি?’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি



সাতদিনের সেরা