kalerkantho

বুধবার । ২৯ জুন ২০২২ । ১৫ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৮ জিলকদ ১৪৪৩

ন্যাটোতে যোগদান বিতর্ক

ন্যাটোর সদস্য বৃদ্ধিকে সমস্যা বললেন পুতিন

♦ ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করবে সুইডেন
♦ মস্কোর তরফ থেকে প্রতিক্রিয়া দেখানোর হুঁশিয়ারি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ন্যাটোর সদস্য বৃদ্ধিকে সমস্যা বললেন পুতিন

পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ন্যাটো জোটে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের যোগ দেওয়ার উদ্যোগের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, দেশ দুটির সঙ্গে রাশিয়ার কোনো বিরোধ নেই। তবে তাদের ভূখণ্ডে সামরিক অবকাঠামোর সম্প্রসারণ মস্কোর তরফ থেকে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করবে।

সুইডেন ও ফিনল্যান্ড দীর্ঘদিনের সামরিক নিরপেক্ষতার অবসান ঘটিয়ে ন্যাটোতে যোগ দেবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সুইডেন সরকার পার্লামেন্টে আলোচনার পর গতকাল সোমবারই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী মাগদালেন আন্দারসন গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাঁর দেশ ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। ফিনল্যান্ডেরও ন্যাটোতে যোগ দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।  

ফিনল্যান্ড ও সুইডেন বলছে, ইউক্রেনের ঘটনাপ্রবাহ তাদের জনগণ ও নেতৃত্বের মধ্যে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে মতৈক্য সৃষ্টি করেছে।

স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশ দুটি ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার পর প্রেসিডেন্ট পুতিন নতুন করে সতর্কতা উচ্চারণ করলেন। পুতিনসহ রুশ কর্মকর্তারা আগে থেকেই দুই প্রতিবেশীর ন্যাটোতে যোগ দেওয়া ভুল হবে বলে সাবধান করে আসছিলেন।

মূলত ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আগ্রহের জেরেই সেখানে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালিয়েছে রাশিয়া। আবার ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিই সুইডেন ও ফিনল্যান্ডকে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত হতে উৎসাহিত করেছে বলে ইউরোপীয় দেশ দুটির দাবি।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে রুশ নেতৃত্বাধীন যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থার (সিএসটিও) শীর্ষ সম্মেলনে গতকাল সোমবার ন্যাটো সম্প্রসারণের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে পুতিন বলেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যাওয়ার বিষয়টি রাশিয়ার জন্য একটি সমস্যা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হাসিল করবে।

তিনি আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী প্রভাব বাড়ানোর জন্য ন্যাটোর পরিকল্পনার বিষয়ে রাশিয়াকে আরো মনোযোগ দিতে হবে।

এর আগে গতকালই রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার তৎপরতার ওপর রাশিয়া নিবিড়ভাবে নজর রাখছে। পেসকভ বলেন, তিনি নিশ্চিত ন্যাটোতে তাদের যোগদান ইউরোপের নিরাপত্তা জোরদার করবে না।

পেসকভ বলেন, ‘এটি একটি গুরুতর বিষয়। এটি এমন ইস্যু যা আমাদের উদ্বিগ্ন করেছে। আমরা সতর্কভাবে এর ওপর নজর রেখে যাব। ’ ক্রেমলিন মুখপাত্র আরো বলেন, ইউক্রেনের মতো ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের সঙ্গে রাশিয়ার কোনো ভূখণ্ডগত বিরোধ নেই।

পেসকভের আগে এ নিয়ে কথা বলেন রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। রিয়া নভোস্তি বার্তা সংস্থাকে তিনি বলেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটো সামরিক জোটে যোগ দেওয়া একটি ভুল, যার পরিণতি হবে সুদূরপ্রসারী।

তুরস্ককে রাজি করানোর চেষ্টা

এদিকে সুইডেন ন্যাটোতে যোগদানের পরিকল্পনা নিয়ে জোট সদস্য তুরস্কের আপত্তি দূর করতে দেশটিতে কূটনীতিক পাঠাচ্ছে। সুইডেন ও ফিনল্যান্ড উভয় দেশের মিত্র তুরস্ক। তবে দেশটি বলেছে, তারা সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের সদস্য পদের আবেদনকে ‘ইতিবাচকভাবে দেখবে না’। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ‘স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো সন্ত্রাসী সংগঠনের অতিথিশালা। ’ তুরস্কের অভিযোগ, সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের মতো স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলোতে কুর্দি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর উপস্থিতি রয়েছে। দেশটি ওই জঙ্গিদের প্রতি সমর্থন বন্ধ করা এবং তুরস্কের কাছে বিশেষ কিছু অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করছে।

ন্যাটোর সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে জোটের ৩০ সদস্য দেশের সবার এবং তাদের পার্লামেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। কূটনীতিকরা বলেছেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সম্মত হওয়ার জন্য চাপের মধ্যে থাকবেন। সূত্র : এএফপি ও বিবিসি



সাতদিনের সেরা