kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

পরিবারতন্ত্র পিছু ছাড়ছে না কংগ্রেসের

♦ নীতিনির্ধারণী শিবিরের শুরুতে সোনিয়া গান্ধী মেনে নিয়েছেন, এত করুণ দশা আগে হয়নি
♦ এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও পরিবারতন্ত্র মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেই কংগ্রেস নেতাদের মত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উঠতে-বসতে কংগ্রেসকে ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ে খোঁচা দেন। দলে ‘পরিবারতন্ত্র’ নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেস এবার নীতিনির্ধারণী শিবিরে ‘এক পরিবার, এক প্রার্থী’ নীতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে। কিন্তু তাতে এমনই ছাড় রাখা হচ্ছে যে গান্ধী পরিবারসহ কংগ্রেসের বেশির ভাগ নেতার পরিবারই এর আওতায় আসবে না।

রাজস্থানের উদয়পুরে কংগ্রেসের নীতিনির্ধারণী শিবিরে যে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের খসড়া নিয়ে আলোচনা চলছে তাতে বলা হয়েছে, একটি পরিবার থেকে একজনকেই ভোটে প্রার্থী করা হবে।

বিজ্ঞাপন

তবে কোনো কংগ্রেস নেতার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা বা অন্য কোনো আত্মীয় গত পাঁচ বছর দলের হয়ে কাজ করে থাকলে তাঁর প্রার্থী হতে বাধা থাকবে না। এর সুবাদে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে রাহুল, প্রিয়াঙ্কা দুজনই প্রার্থী হতে পারবেন।

সোনিয়ার পাশাপাশি রাহুল গত ১৮ বছর ধরে কংগ্রেসে কাজ করছেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক হন। ফলে ২০২৪ সালে তাঁরও রাজনীতিতে পাঁচ বছর আনুষ্ঠানিকভাবে থাকার শর্ত পূরণ হয়ে যাবে। চাইলে তিনিও আগামী লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

নীতিনির্ধারণী শিবিরের শুরুতে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী মেনে নিয়েছেন, দলের এত করুণ দশা আগে হয়নি। তাঁর মন্তব্য, ‘দলের সামনে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মোকাবেলা অসাধারণ পদ্ধতিতেই করা সম্ভব। এ বিষয়ে আমি পুরোপুরি সচেতন। ’

এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও পরিবারতন্ত্র একেবারে মুছে ফেলা সম্ভব নয় বলেই কংগ্রেস নেতাদের মত।

কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য অজয় মাকেন বলেন, এক পরিবার থেকে একজনকেই টিকিট দেওয়ার সূত্রে প্রায় সবাই একমত। পরিবারের দ্বিতীয় কেউ যদি গত পাঁচ বছর দলের জন্য স্বকীয়তার সঙ্গে কাজ করে থাকেন, তাহলে নিয়মের ব্যতিক্রম হবে। প্রবীণ নেতারা নিজেরা প্রার্থী না হয়ে হঠাৎ করে তাঁদের বাড়ির কাউকে প্রার্থী করতে চাইবেন, তা হবে না।

ঘটা করে নতুন নিয়ম চালু হলেও কংগ্রেস নেতারা মেনে নিচ্ছেন, ব্যতিক্রম রাখার ছাড় থাকায় ভবিষ্যতে দিগ্বিজয় সিংহ, ভূপেন্দ্র সিংহ হুডা, পি চিদম্বরম, এ কে অ্যান্টনি, মল্লিকার্জুন খড়গে, হরিশ রাওয়াত, মীরা কুমার—কারো ছেলেরই প্রার্থী হতে আটকাবে না।

কারণ দিগ্বিজয়ের ছেলে জয়বর্ধন, ভূপেন্দ্রর ছেলে দীপেন্দ্র, চিদম্বরমের ছেলে কার্তির মতো সবাই পাঁচ বছরের বেশি সময় রাজনীতি করছেন। কংগ্রেসের যুক্তি, বিজেপিতেও বহু নেতার স্ত্রী-পুত্র-কন্যা সংসদ সদস্য-বিধায়ক হয়েছেন।

পরিবারতন্ত্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে না পারলেও চিন্তন শিবির থেকে কংগ্রেসের সংগঠনে একটা ঝাঁকুনি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কিছু ক্ষেত্রে বিজেপির ধাঁচেই সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা হচ্ছে।

সোনিয়া বলেছেন, ‘এই সংগঠনকে জিইয়ে রাখতে হলে, বাড়াতে হলে, সময় সময় নিজের অন্দরে পরিবর্তন আনতে হবে। রণনীতিতে বদল, কাঠামোগত সংস্কার, রোজকার কাজের পদ্ধতির বদল, এসব ক্ষেত্রে আমাদের সংস্কার অতীব জরুরি। ’ সূত্র : আনন্দবাজার



সাতদিনের সেরা