kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

ছবি তোলা হলো বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ছবি তোলা হলো বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের

প্রথমবারের মতো তোলা আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রের কৃষ্ণগহ্বর ‘স্যাজিটারিয়াস এ’-এর ছবি

প্রথমবারের মতো আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থিত এক অতি বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের (ব্ল্যাকহোল) ছবি তোলা হয়েছে। স্যাগিটারিয়াস এ নামের এই ব্ল্যাকহোলের ভর আমাদের সূর্যের চল্লিশ লাখ গুণ বেশি।  

এখানে দেওয়া ছবিতে মাঝখানে একটি অন্ধকার অঞ্চল দেখা যাচ্ছে। সেখানেই কৃষ্ণগহ্বরটির অবস্থান।

বিজ্ঞাপন

এর চারপাশে রয়েছে অতি উত্তপ্ত গ্যাস থেকে তৈরি আলোর গোলক।

মাত্রা বোঝানোর জন্য বললে কালো বৃত্তটির আকার মোটামুটি আমাদের নক্ষত্র সূর্যের চারপাশে বুধ গ্রহের কক্ষপথের সমান। এর বিস্তার প্রায় চার কোটি মাইল।

সৌভাগ্যবশত এই দানবাকৃতির কৃষ্ণগহ্বরটি বহু দূরে (প্রায় ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরত্বে)। তাই আমাদের পৃথিবীর কখনোই অন্তত এর দিক থেকে বিপদ আসার কোনো  আশঙ্কা নেই। আলোর গতি সেকেন্ডে এক লাখ ৮৬ হাজার মাইল। সেই গতিতে টানা এক বছর চলার পর যত দূর যাওয়া যায় তা-ই এক আলোকবর্ষ।

প্রসঙ্গত কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাকহোল হচ্ছে মহাকাশের সেই অংশ, যেখানে মহাকর্ষ শক্তি এত প্রবল যে কিছুই সেখান থেকে বের হতে পারে না। এমনকি আলোও না। কিছু বৃহৎ তারকার জ্বালানি শেষ হওয়ার পর কৃষ্ণগহ্বরের সৃষ্টি হয়। কিভাবে এটি হয় তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে নিশ্চিত যে কৃষ্ণগহ্বর মহাকাশে শক্তির সঞ্চার করে এবং এর বিবর্তনে প্রভাব ফেলে।

ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপ (ইএইচটি) সহযোগিতা নামে একটি আন্তর্জাতিক দল দীর্ঘ সময় ও  শ্রম সাপেক্ষে এই ছবিটি তৈরি করেছে।

২০১৯ সালে মেসিয়ার ৮৭ বা এম৮৭ নামের আরেকটি ছায়াপথের (গ্যালাক্সি) কেন্দ্রে বিশালাকার কৃষ্ণগহ্বরের একটি ছবি প্রকাশ করার পর এটি তাদের দ্বিতীয় এই ধরনের ছবি। সেটার ভর আমাদের সূর্যের সাড়ে ছয় শ কোটি গুণ।

‘কিন্তু এই নতুন চিত্রটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আমাদের একান্ত নিজের সুবিশাল কৃষ্ণগহ্বর’, বলেছেন অধ্যাপক হেইনো ফাল্কে। ইএইচটি প্রকল্পের পেছনে প্রধান ইউরোপীয় গবেষকদের অন্যতম তিনি।

নেদারল্যান্ডসের রাডবুড ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক হেইনো ফাল্কে বলেন, ‘এটি যেন একেবারে আমাদের বাড়ির উঠানে। কৃষ্ণগহ্বর ও এর কাজ ভালো করে বুঝতে চাইলে এটিই আপনাকে সাহায্য করবে। কারণ আমরা তা অতি বিশদভাবে দেখতে পাচ্ছি। ’  সূত্র : বিবিসি



সাতদিনের সেরা