kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সুইডেনও

♦ দেশটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ন্যাটোর সদস্য পদের জন্য আবেদন করবে বলে মনে করা হচ্ছে
♦ ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদান নিয়ে তুরস্কের কোনো ‘ইতিবাচক মতামত’ নেই : এরদোয়ান

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সুইডেনও

সুইডেন সামরিক জোট ন্যাটোর অন্তর্ভুক্ত হলে উত্তর ইউরোপে সংঘাতের ঝুঁকি কমবে। সুইডেনের পার্লামেন্টে দেশটির বিভিন্ন দলের পর্যালোচনা করা নিরাপত্তানীতিতে এই মত দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে রাশিয়ার প্রতিবেশী সুইডেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ন্যাটোর সদস্য পদের জন্য আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্তের পথ পরিষ্কার করল।

ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডও আগামী রবিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।

বিজ্ঞাপন

রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন প্রেক্ষাপটে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জানান, নিজ দেশকে ন্যাটোভুক্ত দেখতে চান তাঁরা। তবে ন্যাটোর সদস্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান বলেছেন, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদান নিয়ে তুরস্কের কোনো ‘ইতিবাচক মতামত’ নেই। এরদোয়ান সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতায় কিছুটা ভূমিকা রেখেছেন।

ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়া বলেছিল, এ সিদ্ধান্ত ‘স্পষ্টতই’ তাদের জন্য হুমকি। এর প্রতিক্রিয়ায় তারা ‘সামরিক কৌশলগত’ পদক্ষেপসহ নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। ফিনল্যান্ডকে স্বাগত জানাতে আগ্রহী ন্যাটো জানিয়ে রেখেছে, জোটে ফিনল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া হবে ‘মসৃণ ও দ্রুত’।

ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরু করার সময়ই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণকে রাশিয়ার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেন। তিনি ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত না করা তথা ন্যাটোর পূর্বমুখী সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। পুতিনের সেসব দাবি উপেক্ষা করে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কয়েক দশক ধরে পূর্ব-পশ্চিম দ্বন্দ্ব থেকে নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা শান্তিকামী ফিনল্যান্ড।

এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ‘বিজয়ী’ হওয়ার আগ পর্যন্ত ইউক্রেনের সমর্থনে উন্নত দেশের জোট জি-৭ ‘দৃঢ়ভাবে একাট্টা’ বলে জানিয়েছে ফ্রান্স। পাশাপাশি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর চাপ বজায় রাখতে কিয়েভের জন্য আরো অস্ত্র সরবরাহের তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

এদিকে ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রি কুলেবা প্রধান শিল্পায়িত দেশগুলোর প্রতি রুশ সম্পদ জব্দ করে তা ইউক্রেনে পাঠিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠনে সহায়তা করতে আহ্বান জানিয়েছেন।

যুদ্ধ পরিস্থিতি

পূর্ব ইউক্রেনের সেভেরদনেতস্কের কাছের এক নদী পারের চেষ্টা করতে গিয়ে বহু সাঁজোয়া যান হারিয়েছে রাশিয়ার সেনারা। ওই এলাকার ছবিতে বেশ কয়েকটি পোড়া ট্যাংক দেখা গেছে। জানা গেছে, ইউক্রেন বাহিনী পন্টুন সেতুতে বোমাবর্ষণ করার পর ওই ঘটনা ঘটে। কতজন রুশ সেনা মারা গেছে এ ঘটনায়, তা তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুসারে, যুদ্ধে অগ্রগতির জন্য রাশিয়ার সেনা কমান্ডারদের যে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে, তাই এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। তবে মস্কোর বাহিনীকে ইউক্রেনের অন্যান্য যুদ্ধ অঞ্চলে সাফল্য পেতে দেখা গেছে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, পূর্বের শহর রুবিযুঝনের ওপর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়ার সেনারা।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ

রাশিয়া বিভিন্ন অঞ্চলের দখল নিয়ে লাখো স্থানীয় ইউক্রেনীয়কে বিশেষ ক্যাম্পে পাঠিয়ে ‘নিষ্ঠুর নির্যাতন’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।   সূত্র : এএফপি, বিবিসি



সাতদিনের সেরা