kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

জিরো কভিডনীতি

চীনকে মাসুল দিতে হবে অর্থনীতিতে

তার পরও মহামারি নিয়ন্ত্রণ নীতিতে এক চুল ছাড় দেবে না সরকার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কভিড রোগী শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে এলাকাজুড়ে সবার কভিড পরীক্ষা করানো, শনাক্ত সংখ্যা বেশি হলে সেখানে লকডাউন দিয়ে দেওয়া—চীন সরকারের এমন সব নীতির কারণে ফের দেশটিকে অর্থনৈতিক দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্লেষকরা।

করোনাভাইরাস মহামারির লাগাম টেনে ধরে রাখার জন্য কভিড জিরো নীতিতে অটল থাকার ঘোষণা দিয়েছে চীন সরকার। সেই নীতি অনুসারে দেশটির বৃহত্তম ও বাণিজ্যনগরী সাংহাই লকডাউনে। সেখানকার সব বাসিন্দাকে যথারীতি কভিড পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্বাস্থ্যবিধিতে কড়াকড়ির কারণে নগরবাসী খাদ্যসংকটে পড়ে গেছে, দেখা দিয়েছে লকডাউনকেন্দ্রিক আরো কিছু সংকট।

এদিকে কয়েক ডজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানী বেইজিংয়ে এখনো লকডাউন দেওয়া হয়নি বটে, তবে চলাচল সীমিত করা হয়েছে।

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে কভিডনীতির বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা শুনতে হচ্ছে। কিন্তু তাতে সরকার অনড়। চীনের শীর্ষ কর্মকর্তারা গত বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জিরো কভিডনীতিতে সরকার কোনো ছাড় দেবে না। এ নীতির সমালোচনার বিরুদ্ধে সরকার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার চীনের ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে কর্মকর্তারা এসব কথা বলেন।

ওই কমিটির বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংও উপস্থিত ছিলেন। তাঁর উপস্থিতিতে কমিটির কর্মকর্তা অঙ্গীকার করেন, ‘দেশের মহামারি নিয়ন্ত্রণ নীতি বিকৃত হয়, প্রশ্নবিদ্ধ হয় কিংবা উপেক্ষিত হয়, এমন যেকোনো কথা ও কাজের বিরুদ্ধে দৃঢ় লড়াই চলবে। ’

কঠোর বার্তা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট নিজেও। চীনের উহানেই যে প্রথম মহামারি ছড়িয়ে পড়ে, সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উহানকে রক্ষার যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি এবং সাংহাইকে রক্ষার লড়াইয়েও আমরা অবশ্যই জয়ী হব। ’

সরকারের দাবি, মহামারি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার যে নীতিতে চলছে, তাতে বস্তুগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবপ্রাণকে মূল্য দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া অন্যান্য দেশের স্বাস্থ্য খাত মহামারির কারণে যে সংকটে পড়েছে, জিরো কভিডনীতির কারণে চীন সে সংকট এড়াতে পারবে বলেও সরকারের দাবি।

সরকারের এসব দাবির বিপরীতে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জিরো কভিডনীতির কারণে সরকারকে চড়া অর্থনৈতিক মূল্য দিতে হবে। নমুরা গ্রুপের বিশ্লেষকরা গতকাল শুক্রবার জানান, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ চীনের অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে যদি প্রতি তিন দিনে একবার করে কভিড পরীক্ষা করাতে হয় তবে তাতে দেশটির জিডিপির ০.৯ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হবে। আর যদি দেশের ৯০ শতাংশ জনগণের দুই দিন পর পর কভিড পরীক্ষা করাতে হয় তবে এর জন্য গুনতে হবে জিডিপির ২.৩ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



সাতদিনের সেরা