kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ রক্ষায় শতকোটি ডলারের প্রকল্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ রক্ষায় শতকোটি ডলারের প্রকল্প

ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত সর্ববৃহৎ প্রবালপ্রাচীর গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ রক্ষায় শতকোটি ডলারের প্যাকেজ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন গতকাল শুক্রবার ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের ৯ বছর মেয়াদি ওই সুরক্ষা পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের অবস্থার উন্নয়নে এবং এটিকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান পর্যটন খাত ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত, সেই সঙ্গে কুইন্সল্যান্ডের মানুষের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এই প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে ২০১৫ সালে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইউনেসকো।

বিজ্ঞাপন

ওই হুমকির পর ‘রিফ ২০৫০’ শীর্ষক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে অস্ট্রেলিয়া সরকার, প্রবালপ্রাচীরের সুরক্ষায় ব্যয় করা হয় শত শত কোটি ডলার। এতে প্রবালপ্রাচীরের অবস্থার বড় ধরনের উন্নতি না হলেও বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা থেকে এর বাদ পড়া ঠেকাতে পেরেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের ৯৮ শতাংশ এলাকায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব পড়েছে। অক্ষত আছে কেবল ২ শতাংশ।

প্রবালপ্রাচীর রক্ষায় এবারের শতকোটি ডলারের পরিকল্পনা ঘোষণার কারণ কেবল এর সুরক্ষা নিশ্চিত করা নয়, এর সঙ্গে ভোটের রাজনীতিও জড়িত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী মে মাসে অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী মরিসনকে ক্ষমতায় থাকতে হলে কুইন্সল্যান্ড রাজ্যে প্রবালপ্রাচীরসংলগ্ন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে।

অস্ট্রেলীয়দের মনোভাব যাচাই করে লোওয়ি ইনস্টিটিউট ২০২১ সালের এক জরিপ প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির জনগণ বৈশ্বিক উষ্ণায়নকে মারাত্মক ও চাপ সৃষ্টিকারী সমস্যা হিসেবে দেখে। অস্ট্রেলিয়া সরকার ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনবে—এমন লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ব্যাপারে প্রতি ১০ জনে আটজন অস্ট্রেলীয়র সমর্থন আছে।

অস্ট্রেলীয়দের এমন মনোভাবের বিপরীতে বর্তমান বাস্তবতা হলো বিশ্বের সর্বাধিক কয়লা ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশটি চরম নির্ভরশীল। ওই খাতের দাতাদের কাছ থেকেই বিপুল অনুদান পায় দেশটির রাজনৈতিক দলগুলো।

পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থার প্রেক্ষাপটে ক্লাইমেট কাউন্সিল শীর্ষক পরিবেশবাদী সংস্থার কর্মকর্তা ও ম্যাকোয়ারি ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক লেসলি হিউজেস বলেন, ‘একদিকে গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ রক্ষায় অর্থ দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি খাতে অর্থায়ন করা হচ্ছে। অথচ এই জীবাশ্ম জ্বালানি খাতই সাগরের পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কোরালের প্রাণ ধ্বংসের মতো জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিকে মারাত্মকভাবে এগিয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থায় দুই দিকেই অর্থ ঢালার মানে হলো সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে সমস্যা আরো বাড়িয়ে দেওয়া। ’

অধ্যাপক হিউজেসের মতে, চলতি দশকের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ উল্লেখযোগ্য হারে না কমালে প্রবালপ্রাচীরের অবস্থা আরো খারাপের দিকেই যাবে। প্রবালপ্রাচীর রক্ষায় সরকারের শতকোটি ডলারের প্রকল্প ঘোষণা ‘ভাঙা হাড়ে ছোট ব্যান্ডেজ’ লাগানোর মতো। এ ধরনের প্রকল্পের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন রোধেও নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের পানি উত্তপ্ত হয়ে প্রবালপ্রাচীরের প্রাণবৈচিত্র্য ধুয়েমুছে সাফ করে দিচ্ছে। এতে বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে সেখানকার রঙিন জগৎ। প্রবালপ্রাচীর ধ্বংসের এই প্রক্রিয়াকে ব্লিচিং বলা হয়। ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২০ সালে বড় ধরনের ব্লিচিংয়ের শিকার হয় গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার যে পরিকল্পনা করেছে, সেটির মধ্যে রয়েছে প্রবালপ্রাচীর এলাকায় দূষণ প্রতিরোধ। সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা