kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

ভারতের ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন

৭৫ যুদ্ধবিমানের এ পর্যন্ত বৃহত্তম আকাশ মহড়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৭৫ যুদ্ধবিমানের এ পর্যন্ত বৃহত্তম আকাশ মহড়া

ভারতের নয়াদিল্লির রাজপথে গতকাল ৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে ফাইটার জেটের প্রদর্শনী। ৭৫টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নিয়ে এদিনের মহড়াটি ছিল আকাশে ভারতের এযাবৎকালের বৃহত্তম নৈপুণ্যের প্রদর্শনী। ছবি : এএফপি

৭৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে গতকাল বুধবার প্রথামতোই সামরিক শৌর্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বর্ণাঢ্য প্রদর্শনী করল ভারত। তবে ৭৫টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার নিয়ে এদিনের মহড়াটি ছিল আকাশে ভারতের এযাবৎকালের বৃহত্তম নৈপুণ্যের প্রদর্শনী। দিবসটি উপলক্ষে দিল্লির ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালে শহীদ সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নয়াদিল্লির ‘রাজপথ’ প্যারেড স্কয়ারে ২১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ।

বিজ্ঞাপন

রাষ্ট্রীয় এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কুচকাওয়াজে ভারতের সামরিক সক্ষমতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। কভিড নিষেধাজ্ঞার কারণে কুচকাওয়াজে মাত্র পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেয়। শুধু কভিড টিকার পূর্ণাঙ্গ ডোজ নেওয়া প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি এবং অন্তত এক ডোজ নেওয়া ১৫ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়।

স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের সেনাবাহিনীর পোশাক ও রাইফেলের যেসব পরিবর্তন হয়েছে কুচকাওয়াজে তা তুলে ধরা হয়। আগের দশকগুলোর পোশাক ও রাইফেলে সজ্জিত সেনাবাহিনীর তিনটি দল প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। একটি দল অংশ নেয় নতুনতম ইউনিফর্ম ও সাম্প্রতিককালের টেভর রাইফেল নিয়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর দলগুলো ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যও প্রদর্শন করে।

এমআই ১৭ যুদ্ধবিমান ও ১৭টি জাগুয়ার যুদ্ধবিমান দিয়ে ফ্লাইপাস্ট শুরু হয়। ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম দূরদর্শনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের সময়কার রেকর্ড করা দৃশ্য দেখায়। অনুষ্ঠানস্থলে বড় পর্দায় তুলে ধরা হয় রোমাঞ্চকর সেই ছবি। সম্প্রতি সংগৃহীত পাঁচটি রাফাল যুদ্ধবিমানও প্রদর্শনীতে অংশ নেয়।   বিমানগুলো বিনাশ, মেঘনা, একলব্য, রুদ্র ও আরমিটসহ বিভিন্ন ফরমেশনে কসরত দেখায়। একটি বিশেষ পরিবেশনার নাম দেওয়া হয় ‘টাঙ্গাইল ফরমেশন’। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় টাঙ্গাইলে ভারতীয় ছত্রীসেনার অবতরণকে স্মরণ করতেই এটি করা হয়। সেখান থেকেই মিত্রবাহিনীর সেনারা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ‘টাঙ্গাইল ফরমেশন’ নামে একটি ডাকোটা ও দুটি ডর্নিয়ের বিমান বিজয়সূচক ‘ভি’ আকারে উড়ে যায়।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে একইভাবে উদযাপন করা হয়েছে জাতীয় দিবস। সকালে পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত হয় এ অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। কভিড মহামারির কারণে মাত্র ৩০ মিনিটের ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রজাতন্ত্রে রূপ নিয়েছিল ভারত। সূত্র : এনডিটিভি



সাতদিনের সেরা