kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

পুতিনকে ব্লিংকেন

‘শান্তির পথে আসুন’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২০ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘শান্তির পথে আসুন’

অ্যান্টনি ব্লিংকেন

রাশিয়া হামলা চালালে ইউক্রেনকে সহায়তা করার অঙ্গীকার যে কেবল কথার কথা নয়, সেটা প্রমাণ করতে গতকাল বুধবার কিয়েভে পা রেখেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন। ইউক্রেন সফরের শুরুতেই তিনি বলেছেন, রাশিয়া যেন শান্তিপূর্ণ পথে চলে।

ইউক্রেনে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থানকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিংকেন বলেন, ‘আমি অত্যন্ত জোরালো আশা করছি, আমরা কূটনীতি ও শান্তির পথে থাকতে পারব। কিন্তু সিদ্ধান্তটা এখন প্রেসিডেন্ট (ভ্লাদিমির) পুতিনের ওপর।

বিজ্ঞাপন

’ কূটনীতির পথে না যাওয়ার অর্থ হলো পুতিন সংঘাত বেছে নিয়েছেন এবং এর জন্য রাশিয়াকে ভুগতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ব্লিংকেন।

কোনো রকম উসকানি কিংবা কারণ ছাড়াই রাশিয়া ঝামেলা বাড়াচ্ছে, এমন অভিযোগ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আরো আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা রাশিয়ার রয়েছে। পুতিন যেন অত্যন্ত অল্প সময়ে বেশিসংখ্যক সেনা মোতায়েন করতে পারেন, সে ব্যাপারে পরিকল্পনা করা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ব্লিংকেন।

ইউক্রেন সীমান্তের কাছে বিপুলসংখ্যক রুশ সেনা মোতায়েন করা নিয়ে ক্রেমলিনের সঙ্গে পশ্চিমের দ্বন্দ্ব এখন তুঙ্গে। দ্বন্দ্ব নিরসনে পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার দফায় দফায় বৈঠক কোনো কাজে আসেনি। ব্যর্থ বৈঠকগুলোর পর আগামীকাল শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ফের বৈঠক করতে যাচ্ছেন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। সেই বৈঠকের আগে ব্লিংকেন ইউক্রেন সফর করলেন এবং রাশিয়াকে হুঁশিয়ারি দিলেন। জেনেভা বৈঠকের আগে তিনি আজ বৃহস্পতিবার বার্লিনে জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ইউক্রেন সফরে যাওয়ার আগমুহূর্তে ব্লিংকেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে কথা বলেন। কথোপকথনের পর রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ব্লিংকেনকে ফোন করে ল্যাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন পরিকল্পনার অভিযোগ নিয়ে অনুমাননির্ভর কথার পুনরাবৃত্তি যেন যুক্তরাষ্ট্র না করে।

অথচ গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেন, ‘আমরা এখন যে পর্যায়ে রয়েছি, তাতে রাশিয়া যেকোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে। ’ সাকির ভাষ্য, পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক যে মোকাবেলার সব উপায় বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির বক্তব্যের প্রমাণ হাতেনাতে পাওয়া যায় গতকাল বুধবার। এদিন ইউক্রেনের জন্য মার্কিন প্রশাসনের বাড়তি ২০ কোটি ডলারের নিরাপত্তা সহায়তার অনুমোদনের খবর নিশ্চিত করেন এক কর্মকর্তা। অনুমোদনটি দেওয়া হয় গত মাসে।  

গত বছর ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাশিয়া সেনা জড়ো করার আগেই কিয়েভের সামরিক খাতে ৪৫ কোটি ডলার সহায়তা দেয় ওয়াশিংটন। এর সঙ্গে যুক্ত হলো আরো ২০ কোটি ডলার।

অর্থ সহায়তার পাশাপাশি অস্ত্র সহায়তাও পেয়েছে ইউক্রেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেন ওয়ালেস জানান, ব্রিটিশ সরকার ইউক্রেনকে ট্যাংকবিধ্বংসী স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করছে। সাঁজোয়া যান ধ্বংসে সক্ষম হালকা অস্ত্রের একটি চালান গত সোমবার ইউক্রেনে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওয়ালেস। সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা