kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ২৬ মে ২০২২ । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৪ শাওয়াল ১৪৪

সাফল্য-ব্যর্থতা মিলিয়েই বাইডেনের এক বছর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাফল্য-ব্যর্থতা মিলিয়েই বাইডেনের এক বছর

জো বাইডেন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলের শেষে কভিড মহামারি ও অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলায় বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের মুখে দায়িত্ব নেন জো বাইডেন।

দেশের ক্ষয়িষ্ণু গণতন্ত্র ‘মেরামত’, কভিডকে পরাজিত করা, গভীর জাতিগত ও অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান এবং বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনরুদ্ধার করাসহ অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ২০ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসার প্রথম বছর পূরণ করতে যাচ্ছেন তিনি। এই এক বছর ভরা সাফল্য আর ব্যর্থতার মিশেলে।

বিজ্ঞাপন

কভিড : এই মহামারির ব্যাপকতাকে খাটো করে দেখেছিলেন বাইডেনের উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দ্রুত টিকা উৎপাদনের বিষয়ে তিনি তদারকি করেছিলেন। জো বাইডেন ক্ষমতা নেওয়ার পর ব্যাপকভাবে টিকা দেওয়া শুরু করেন। তিনি গত বছরের ৪ জুলাইকে ভাইরাস থেকে মুক্তির দিন ঘোষণা করেছিলেন। তবে করোনাভাইরাসের পরবর্তী ধরন ডেল্টা আঘাত করায় পরিস্থিতি বদলে যায়। এর মধ্যে ডিসেম্বরে আঘাত হানে সর্বশেষ ধরন ওমিক্রন। এ জন্য বাইডেনকে দোষারোপ করা হয়।

ক্ষমতা নেওয়ার শুরুতে ৬৯ শতাংশ আমেরিকান বাইডেনের কভিড নীতিগুলোকে সমর্থন করেছিল। বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ শতাংশে। দেশের রক্ষণশীল এলাকাগুলোতে টিকা বাধ্যতামূলক করার প্রচেষ্টা তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা উসকে দিয়েছে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার : বেকারত্ব এবং অর্থনৈতিক নিম্নমুখী প্রবণতা ও মন্দা থেকে বাঁচাতে ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের উদ্ধার পরিকল্পনা পাস করার কৃতিত্ব দেওয়া হয় বাইডেন প্রশাসনকে। বাইডেন সেতু, রাস্তা, ইন্টারনেট সংযোগ এবং আরো অনেক স্থাপনা ঠিক করতে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারের অবকাঠামো বিলে স্বাক্ষর করেছেন। আইনটি রিপাবলিকানদের সমর্থনসহ পাস হয়।

তবে আরো বড় ১.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু ও সামাজিক ব্যয় বিলটি (বিল্ড ব্যাক বেটার বিল) সিনেটে আটকে আছে। এই বিলের চরম বিরোধী বাইডেনের নিজের ডেমোক্রেটিক দলের সিনেটর জো মানচিন। তাঁর সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হন বাইডেন।

২০২১ সালে শেয়ারবাজারের সূচক ও চাকরির বাজার বাড়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড সৃষ্টি হয়। বেকারত্বের হার কমে ৩.৯ শতাংশের সম্মানজনক পর্যায়ে পৌঁছে। তবে বাইডেনকে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। গত ডিসেম্বরে বার্ষিক পরিসংখ্যানে মুদ্রাস্ফীতি ৭ শতাংশের রেকর্ডে পৌঁছে।

গণতন্ত্র ও সামাজিক পরিবর্তন : বাইডেন তাঁর দলের বামপন্থী অংশ বা মূল ভোটদানকারী গোষ্ঠী, বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গদের দাবি পূরণে অসুবিধায় পড়েছেন।

আগ্নেয়াস্ত্রের প্রতি মার্কিনদের আসক্তি কমানো এবং পুলিশের বর্বরতা প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বারবার দিয়ে এসেছেন বাইডেন। এ ছাড়া তিনি ভোটাধিকার সংস্কার ও কৃষ্ণাঙ্গদের প্রতি বৈষম্য বন্ধ করতে ভোটাধিকার আইন সংস্কার করতে চান। তবে মাত্র দুজন ডেমোক্র্যাটের বিরোধিতার কারণে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারছেন না। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভাজন দূর করতে খুব একটা সফল হননি বাইডেন। যদিও এটা তাঁর একার দোষ নয়।

‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’ : বাইডেন প্রশাসন প্রথম দিনই উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা দিয়েছিল ‘আমেরিকা ফিরে এসেছে’। অনেক ক্ষেত্রেই এ ঘোষণার প্রতিফলন ঘটেছে। বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরিয়ে আনেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের বহুজাতিক প্রচেষ্টায়ও ফিরে আসেন। তিনি ইউরোপ, ন্যাটো ও এশিয়াজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো ও শক্তিশালী মিত্রদের আশ্বস্ত করেন।

তবে আফগানিস্তান থেকে প্রস্থান ব্যর্থতার একটি দলিল। মার্কিন সেনারা দেশটি ত্যাগ করা মাত্র তালেবান আবার ক্ষমতা দখল করে নেয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেশাদারির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।



সাতদিনের সেরা