kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ মাঘ ১৪২৮। ২০ জানুয়ারি ২০২২। ১৬ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বন রক্ষার প্রতিশ্রুতি পূরণে বৈশ্বিক কম্পানিগুলো ব্যর্থ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বন রক্ষার প্রতিশ্রুতি পূরণে বৈশ্বিক কম্পানিগুলো ব্যর্থ

এশিয়ার বৃহত্তম দ্বীপ বোর্নিওতে পাম চাষের বাড়বাড়ন্ত। তাই উজাড় করে ফেলা হচ্ছে বন। ছবি : এএফপি

বন উজাড় কমাতে সক্ষম এমন বৈশ্বিক কম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিষয়টি গত নভেম্বরে গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত জলবায়ু শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া বন রক্ষার প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ন করছে। গত বৃহস্পতিবার একটি প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ক্যানোপি বিশ্বের ৩৫০টি  কম্পানিকে চিহ্নিত করেছে, যারা বন উজাড়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকা পণ্য উৎপাদন, ব্যবহার ও বিক্রি করে থাকে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ১৫০টি বৃহত্তম ব্যাংক ও বিনিয়োগ সংস্থা এবং পেনশন তহবিল চিহ্নিত করেছে, যারা ওই কম্পানিগুলোকে অর্থায়ন করে। এসব কম্পানির এক-তৃতীয়াংশেরই বন উজাড় বন্ধে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। ৭২ শতাংশ কম্পানির বন উজাড়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মাত্র কিছু পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ছিল।

গ্লোবাল ক্যানোপির প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, যারা অটেকসই পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ করে সয়া, গরুর মাংস এবং চামড়াজাত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তারা কিভাবে তা বাস্তবায়ন করছে তার প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

গ্লোবাল ক্যানোপির নির্বাহী পরিচালক নিকি মারদাস বলেন, ‘বন উজাড়ের কারণে যে জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটছে, তা খুব কম কম্পানিই স্বীকার করে।’

বন উজাড় বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া কম্পানির পাঁচ স্তরের র্যাংকিংয়ের মধ্যে কারগিল, কোলগেট-পামোলিভ, নেসলে করপোরেশন, ইউনিলিভার, পেপসিকোসহ ১৫টি কম্পানি রয়েছে। এদের স্কোর মোটামুটি সন্তোষজনক। প্রায় ৬০টি কম্পানির স্কোর সর্বনিম্ন। এর মধ্যে চীন, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার অনেক কম্পানি রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্থিক সংস্থাগুলোর অগ্রগতি আরো কম। এসব সংস্থা বন উজাড়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিপণন করা কম্পানিগুলোতে প্রতিবছর সাড়ে পাঁচ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করে।

বিশ্লেষণ করা ১৫০টি আর্থিক সংস্থার মধ্যে ৯৩টিরই বন ধ্বংসকারী পণ্য উৎপাদন করা কম্পানিগুলোতে বিনিয়োগ ও ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো নীতি নেই। ২৪টিরও কম ব্যাংক বা বিনিয়োগ সংস্থা রয়েছে, যাদের বন উজাড় বন্ধে নীতি রয়েছে।

জলবায়ু সম্পর্কিত অলাভজনক সংগঠন ‘উই মিন বিজনেস’-এর সাবেক প্রধান নির্বাহী নাইজেল টপিং এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কার্বন নিঃসরণ শূন্য করতে কম্পানিগুলোর বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি প্রয়োজন। এটি ছাড়া বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাকশিল্প যুগের তুলনায় বৃদ্ধি সর্বোচ্চ দেড় ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কোনো পথ নেই।

বাণিজ্যিকভাবে পাম তেল এবং সয়া চাষ, গবাদি পশুর চারণভূমি ও কাঠের জন্য বন উজাড় হচ্ছে। এসব জলবায়ু, মানব সম্প্রদায় এবং পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে ত্রিমুখী হুমকি বয়ে আনছে।

কৃত্রিম উপগ্রহের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গত দুই দশকে আমাজন নদীর অববাহিকায় প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার বনভূমি উজাড় হয়েছে। ব্রাজিলে ২০২১ সালে বন উজাড়ের হার ২২ শতাংশ বেড়েছে, যা ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সূত্র : এএফপি



সাতদিনের সেরা