kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

রাশিয়ার প্রতি কঠোরতায় একাট্টা যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার প্রতি কঠোরতায় একাট্টা যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপ

ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কী ও কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে দফায় দফায় বৈঠক করছে পশ্চিমা সরকারগুলো। রুশবিরোধী অবস্থানে গোটা ইউরোপকে একাট্টা করতে ওই অঞ্চলের প্রভাবশালী দেশ জার্মানির সঙ্গে আলাদা বৈঠকের আয়োজনও করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সম্প্রতি ইউক্রেন সীমান্তে বিপুল সংখ্যক সেনা জড়ো করে রাশিয়া। স্রেফ মহড়ার লক্ষ্যেই সেনা জড়ো করা হয়েছে, রাশিয়া এমন দাবি করে আসলেও তা মানতে নারাজ ইউক্রেন ও এর পশ্চিমা মিত্ররা।

বিজ্ঞাপন

তাদের সবার অভিযোগ, ইউক্রেনে শিগগির সামরিক আগ্রাসন চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনে সত্যি সামরিক হামলা চালালে রাশিয়াকে ভয়ানক পরিণতি ভোগ করতে হবে এবং চড়া মূল্য দিতে হবে, এমন হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ।

অন্যদিকে রাশিয়া বলছে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গ্যানাইজেশন (ন্যাটো) যেভাবে ক্রমে রুশ সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে, তাতে নিরাপত্তা হুমকিতে আছে ক্রেমলিনও। এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এক মাস আগে কিছু দাবি উত্থাপন করেছে রাশিয়া। তাতে বলা হয়, ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করতে পারবে না এবং এ সামরিক জোট সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশে নতুন করে সামরিক বসাতে পারবে না।

ইউক্রেন ইস্যুতে বিতণ্ডার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন দুই দফা কথা বলেন। গত ডিসেম্বর দুই নেতা ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন। এরপর গত বৃহস্পতিবার তারা ফোনে কথা বলেন। গত রবিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। গত মঙ্গলবার পাঁচ নর্ডিক রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির শীর্ষ কূটনীতিকদের বৈঠক হওয়ার কথা। ইউক্রেনে হামলা চালালে রাশিয়ার ওপর সম্ভাব্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞাই তাদের আলোচনার মূল বিষয়।

এখানেই শেষ নয়, আগামীকাল শুক্রবার ন্যাটোভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইউক্রেন ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে বসছেন। আগামী সপ্তাহেই হতে চলেছে ন্যাটো-রাশিয়া কাউন্সিল এবং ইউরোপের নিরাপত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থার (ওএসসিই) বৈঠক।

এদিকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে জার্মানির নতুন সরকার কঠোর বার্তা দিলেও আদতে ইউরোপীয় দেশটি কতটা কঠোর হতে পারবে বা হবে, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, রাশিয়া থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের মত জরুরি বিষয় জার্মানিকে প্রভাবিত করবে। বেশির ভাগ ইউরোপীয় দেশের মত জার্মানিও গ্যাসের জন্য রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরশীলতা এতটাই বেশি যে নর্ড স্ট্রিম ২ গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণে জড়িত কম্পানিগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা না দিতে যোগাযোগ করেছিল জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের আমলের সরকার।

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহকারী নতুন পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম ২ পশ্চিম ইউরোপের বিরুদ্ধে পুতিনের ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে কাজ করবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের রিপাবলিকান সদস্য মাইক ওয়াল্টজ। সূত্র: এপি।



সাতদিনের সেরা