kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘সফল’ বৈঠকে সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা দিল্লি-মস্কোর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই ভারত-রাশিয়া চুক্তি : কূটনৈতিক সূত্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘সফল’ বৈঠকে সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা দিল্লি-মস্কোর

ভারত ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পর্যায়ের সর্বপ্রথম বৈঠকেই সাফল্যের মুখ দেখা গেছে বলে দাবি নয়াদিল্লির। গত সোমবার প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশ। দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও আগামী ১০ বছরের জন্য সমঝোতা হয়েছে মস্কো-দিল্লির।

এ ছাড়া আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদে পুঁজির জোগান দেওয়া, সহায়ক পরিস্থিতি গড়ে তোলার বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি ও মস্কোর অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু প্রথম যে চুক্তিটি সই করেন তা প্রায় ছয় লাখ একে-২০৩ রাইফেল ভারতে যৌথ উৎপাদনসংক্রান্ত। উত্তর প্রদেশের অমেঠীতে রূপায়িত হবে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি ২০৩১ সাল পর্যন্ত ভারত-রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার একটি চুক্তিও সই করেন দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

বৈঠকের পরে রাজনাথ টুইট করে বলেন, ‘প্রতিরক্ষা-সহযোগিতার ক্ষেত্রে কার্যকর, ফলপ্রসূ এবং সর্বাত্মক দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। ’

কূটনৈতিক সূত্রের মতে, আমেরিকাকে পুরোপুরি অগ্রাহ্য করে যে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে এই বিস্তৃত সহযোগিতার রাস্তায় হাঁটছে, বিষয়টি এমন নয়। সবটাই আমেরিকাকে জানিয়েই করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। চীনের সঙ্গে যখন সীমান্তে সংঘাত চলছে, তখন এই প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ভারতের কাছে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সূত্রের খবর, বিষয়টি আমেরিকার প্রশাসনকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছে মোদি সরকার। দুই সপ্তাহ আগেই এ নিয়ে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘ এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন আমেরিকার সিনেটর জন কর্নিনের সঙ্গে। কর্নিন হলেন সেই দুজন সিনেটরের একজন যাঁরা সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে আবেদন করেছেন, ভারতকে নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখতে। তাঁদের যুক্তি, ভারতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলে তা দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের পক্ষে ক্ষতিকর হবে।

এদিকে প্রথম দিনের বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘স্থির হয়েছে আফগানিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বিষয়ে রাশিয়া ও ভারত ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং সহযোগিতা বজায় রাখবে। দুটি দেশই চায় শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ এবং সুস্থির আফগানিস্তান। সে দেশের সরকারে সব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব থাকা কাম্য। ’ শ্রিংলা বলেন, ‘আফগানিস্তানের মাটিকে ব্যবহার করে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদে পুঁজির জোগান, সহায়ক পরিস্থিতি গড়ে তোলা, মাদক চোরাচালানের মতো যাবতীয় বিষয়ের বিরুদ্ধে নয়াদিল্লি ও মস্কো। পাশাপাশি আফগানিস্তানের মানুষের জন্য সাহায্য যাতে মসৃণভাবে পৌঁছে দেওয়া যায় তা নিয়েও কথা বলেছেন দুই দেশের রাষ্ট্রনেতা। ’

এ ছাড়া বৈঠকের শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে রাখা হয়েছে এমন কয়েকিট জঙ্গিগোষ্ঠীর নাম, যেগুলো পাকিস্তানে সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে। শ্রিংলা জানিয়েছেন, ‘লস্কর-ই-তৈয়বা, আল-কায়েদা, আইএসের মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দমন করার জন্য যৌথভাবে কাজ করা হবে। ভারতের প্রতিবেশী ভূখণ্ডে যারা জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে তাদের সবার কথাই আজ আলোচনায় উঠে এসেছে। ’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা।



সাতদিনের সেরা