kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ম্যাখোঁর উপসাগরীয় অঞ্চল সফরের লক্ষ্য

শান্তি, রাজনীতি না বাণিজ্য?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শান্তি, রাজনীতি না বাণিজ্য?

ইমানুয়েল ম্যাখোঁ

উপসাগরীয় অঞ্চলে দুই দিনের সংক্ষিপ্ত সফরকালে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বিরাট অঙ্কের বাণিজ্য নিশ্চিত করেছেন। এই সফরেই তিনি এমন একটি দেশ সফর করেছেন, যেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্কিত। একই সফরে ম্যাখোঁ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বার্তাও দিয়েছেন।

গত শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল সফর শুরু করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ।

বিজ্ঞাপন

এদিন আমিরাত সরকারের কাছে এক হাজার ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ৮০টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি করে ফ্রান্স। বলা দরকার, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক হামলায় ইয়েমেনে যে চরম মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে, তাতে ইউএইর দায় কম নয়। এ অবস্থায় ইউএইর কাছে ফ্রান্স বিপুল অঙ্কের যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি করায় এর সমালোচনা করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

আমিরাতে যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষে ম্যাখোঁ শুক্রবার সন্ধ্যায়ই কাতারে পৌঁছেন এবং কাতারের আমিরের সঙ্গে সাক্ষাতের আনুষ্ঠানিকতা সারেন। কাতারে অবস্থানকালে কোনো দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের কোনো চুক্তির বিষয়ে জানা যায়নি।

সাদামাটাভাবে কাতার সফর শেষে গত শনিবার সৌদি আরবে পৌঁছেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান। জেদ্দায় সৌদি রাজপ্রাসাদে তাঁকে স্বাগত জানান যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ রয়েছে এমবিএস খ্যাত সৌদি যুবরাজের বিরুদ্ধে। ক্ষমতা সুসংহত করার পথে যাদের হুমকি বলে মনে করেন, তাদের ওপর খড়্গহস্ত হওয়ার অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসবের সঙ্গে ২০১৮ সালে যোগ হয় সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার অভিযোগ। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে ঢুকলে খাশোগিকে সেখানেই হত্যার পর লাশ টুকরা টুকরা করে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয় এবং সৌদি যুবরাজের নির্দেশেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়।

সৌদি আরব সফর আর যুবরাজের সঙ্গে করমর্দন মানে দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং খাশোগি হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উপেক্ষা করা নয়, এমন দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ। কিন্তু এসব ইস্যু নিষ্পত্তিতে ফ্রান্সের অবস্থান কিংবা করণীয় কোনোটিই অবশ্য স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে ‘আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য’ সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

সুনির্দিষ্টভাবে সৌদি আরবের বিষয়ে কথা বলার পরিবর্তে দেশটির সঙ্গে লেবাননের সম্পর্কোন্নয়নে জোর দেন ম্যাখোঁ। এ জন্য তিনি ও যুবরাজ সালমান লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতির সঙ্গে যৌথভাবে ফোনে কথাও বলেন। লেবাননে ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তরোত্তর শক্তিশালী হয়ে ওঠায় সৌদি-লেবানন সম্পর্কে দূরত্ব বেড়ে যায়।

ফরাসি রাষ্ট্রপ্রধান কথা বলেন আফগানিস্তান নিয়েও। তাঁর ভাষ্য, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যৌথভাবে আফগানিস্তানে কূটনৈতিক মিশন খোলার কথা ভাবছে। কূটনৈতিক মিশন খোলার মানে তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া, সেটাও উল্লেখ করেন তিনি।

তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি না দিয়ে কিভাবে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা যায়, সেই কৌশল ঠিক করতে রীতিমতো খাবি খাচ্ছে পশ্চিমারা। পথ বের করতে তালেবানের সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে মাড়িয়ে ম্যাখোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে আগেভাগে আফগানিস্তানে সম্পর্ক এগিয়ে নেবেন কি না, সর্বোপরি মধ্যপ্রাচ্যে ইইউকে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে এগিয়ে নিচ্ছেন কি না সেদিকে নজর রাখছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : এএফপি, আলজাজিরা।



সাতদিনের সেরা