kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চীনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্প

পাল্লা দিতে আসছে ইইউর ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বিশ্বব্যাপী একটি বিশাল বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করতে যাচ্ছে। একে চীনের আলোচিত ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ উদ্যোগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ নামের ইইউর পরিকল্পনাটিকে আফ্রিকাসহ বিশ্বের অন্য অঞ্চলগুলোতে চীনের প্রভাব মোকাবেলায় পশ্চিমা প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার চেয়ে বড় কথা হলো এই উদ্যোগের ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলো উপকৃত হবে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইনের গতকাল বুধবারই এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করার কথা ছিল।

গতকাল যে ১৪ পৃষ্ঠার পরিকল্পনা উপস্থাপনের কথা রয়েছে, তাতে এ উদ্যোগটি যে চীনের কৌশলের প্রতিদ্বন্দ্বী, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার কোনো সম্ভাবনা নেই। এর আগে গত মঙ্গলবার এই পরিকল্পনার বিষয়ে বলার জন্য সাংবাদিকরা চাপ দিলেও ইউরোপীয় কমিশন কৌশলে চীনের নাম উল্লেখ থেকে বিরত থাকে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নির্দলীয় পাবলিক পলিসি থিংকট্যাংক জার্মান মার্শাল ফান্ডের সিনিয়র ট্র্যান্স আটলান্টিক ফেলো অ্যান্ড্রু স্মল বলেছেন, এ প্রেক্ষাপটে এটা অনিবার্য যে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড (ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড) যদি না থাকত, তবে গ্লোবাল গেটওয়ের জন্ম হতো না’। তাঁর মতে, যেসব দেশ চীনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভাবছে, তাদের জন্য ঋণ পাওয়ার বিকল্পের পথ সুগম করবে ইউরোপের এই উদ্যোগ।

চীনের সাম্প্রতিক পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ পরিকল্পনা। নতুন সড়ক, বন্দর, রেলওয়ে এবং সেতুতে অর্থায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সংযোগের উন্নয়নই এর লক্ষ্য। এই পরিকল্পনা এশিয়া, ইন্দো-প্যাসিফিক, আফ্রিকা, এমনকি পশ্চিম বলকানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিকটবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। চীন এসব অঞ্চলে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে চায়। এ পরিকল্পনায় মূলত দুটি সড়কপথে মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত হবে চীন। এই সড়কপথের সঙ্গে রেলপথ ও তেলের পাইপলাইনও রয়েছে। এ লক্ষ্যে চীন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ঋণ দিচ্ছে। চীনের এই উদ্যোগকে ‘ঋণের ফাঁদের কূটনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন অনেকে। আবার কেউ কেউ এ যুক্তিও দেন যে বড় অঙ্কের ঋণ ঝুঁকিপূর্ণ হলেও এর চাহিদা রয়েছে। চীন ঋণের চাহিদা যেভাবে পূরণ করছে, তা অন্যরা করেনি। তবে এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে চীনের অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক প্রভাব বেড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পশ্চিমাদের সঙ্গে তার উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা