kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ফাঁস হওয়া নথিতে ইঙ্গিত

উইঘুর দমন-পীড়নে চীনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা জড়িত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চীনে উইঘুর মুসলমানদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের সঙ্গে স্বয়ং দেশটির প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ফাঁস হওয়া নতুন একটি নথিতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ওই নেতাদের আহবানই ওই দমন-পীড়ন অভিযানের পথ প্রশস্ত করে বলে নথি থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

চীন সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমানদের বন্দি রাখা এবং জোর করে শ্রমে নিয়োজিত করার পাশাপাশি গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। তবে উইঘুরদের ওপর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ বারবারই অস্বীকার করে আসছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

নথিগুলো প্রথম গত সেপ্টেম্বরে ‘উইঘুর ট্রাইব্যুনাল’ নামে যুক্তরাজ্যের একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়েছিল। তখন ‘শিনজিয়াং পেপার’ নামে পরিচিত ওই নথি সম্পূর্ণ প্রকাশ করা হয়নি।

চীনের শিনজিয়াং প্রদেশেই উইঘুর সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ মানুষের বাস। নথিতে প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি খোয়াছিয়াংসহ চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা উইঘুরদের নিয়ে যেসব বিবৃতি দিয়েছিলেন, তা তুলে ধরা হয়েছে। আর এসব বিবৃতিই সরাসরি সরকারি নীতিমালাকে প্রভাবিত করে, যা উইঘুরসহ অন্য জাতিগোষ্ঠীর মুসলমানদের দমন-পীড়নে ভূমিকা রাখে বলে দাবি করা হয়েছে।

উইঘুরদের ওপর যেসব দমন-পীড়ন চালানো হয় তার মধ্যে রয়েছে জোরপূর্বক বন্দি রাখা, গণবন্ধ্যাকরণ, চীনা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আত্তীকরণের নামে ‘পুনঃশিক্ষা দেওয়া’ এবং আটক উইঘুরদের শ্রম দেওয়ার জন্য বাধ্য করা।

২০১৯ সালেও ফাঁস হওয়া অভিন্ন এক সেট নথি পাওয়ার কথা জানায় নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা। তবে সেসব নথির সবগুলো জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা হয়নি।

বিশ্লেষক ড. অ্যাড্রিয়ান জেনস এক প্রতিবেদনে চীনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের দেওয়া বিবৃতির সঙ্গে ওই দমন-পীড়নের যোগসূত্র তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আগে যেমন ধারণা করা হয়েছিল, এটা তার চেয়ে ‘অনেক বেশি বিস্তৃত, বিস্তারিত ও তাৎপর্যপূর্ণ’।

শিনজিয়াংয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আন্তর্জাতিক নিন্দা ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে চীনকে।

২০১৩ সালে বেইজিং এবং ২০১৪ সালে কুনমিং শহরে পথচারী ও যাত্রীদের ওপর দুটি নৃশংস হামলার দায় উইঘুর ইসলামপন্থী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ওপর চাপায় চীন। ওই ঘটনা দুটির পর শিনজিয়াং অঞ্চলের প্রতি চীনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে। এরপর ২০১৬ সাল থেকে এর প্রতিক্রিয়ায় উইঘুর এবং অন্য মুসলমানদের জন্য কথিত ‘পুনঃশিক্ষা’ শিবির তৈরি করা হয়। পাশাপাশি মুসলমানদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। এ ছাড়া সরকার উইঘুর জনসংখ্যা কমানোর জন্য নারীদের বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি নেয়। পাশাপাশি উইঘুর জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা করে বলে গণমাধ্যমের বিভিন্ন খবরে উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ উইঘুরদের কেন্দ্র করে চীনের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ এনেছে।

চীন দৃঢ়ভাবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সন্ত্রাস প্রতিরোধ এবং ইসলামী জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করার প্রয়োজনেই তারা এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা