kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

চার মিনিটে কৃষি আইন বাতিলের বিল পাস

ভারতে এত দ্রুত আইন বাতিল আর হয়নি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চার মিনিটে কৃষি আইন বাতিলের বিল পাস

ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইন বাতিলের বিলটি গতকাল সোমবার পাস হয়েছে। কোনো আলোচনা ছাড়াই দুই ঘণ্টার অধিবেশনের মধ্যে চার মিনিটেই লোকসভায় বিলটি পাস হয়।

কৃষকদের দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে গত ১৯ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কিছুটা আকস্মিকভাবেই আইনগুলো বাতিল করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

স্বাধীন ভারতে কোনো আইন এত দ্রুত বাতিল করার ঘটনা এটাই প্রথম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কৃষি আইন বাতিল বিল, ২০২১ গতকাল স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৬ মিনিটে লোকসভায় উত্থাপন করা হয়। ১২টা ১০ মিনিটেই তা পাস হয়। এরপর বিরোধীদের বেঞ্চ থেকে ব্যাপক শোরগোল শুরু হলে অধিবেশন সাময়িক মুলতবি করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভাতেও বিলটি পাস হয়।         

কৃষিপ্রধান পাঞ্জাব এবং উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী মোদি ওই আইন বাতিল করলেন। এ জন্য অনেকেই একে রাজনৈতিক চাল বলে উড়িয়ে দেন।

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, ‘ওই কৃষি আইন বাতিলের বিল নিয়ে আমরা আলোচনার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো আলোচনা ছাড়াই বিলটি পাস করা হলো।’

কৃষিপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণমুক্ত করার ঘোষিত লক্ষ্যে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে পাস করা হয় কৃষি সংস্কার আইন। আইন তিনটি ছিল ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য (সংশোধনী) আইন’, ‘কৃষিপণ্য লেনদেন ও বাণিজ্য উন্নয়ন আইন’ এবং ‘কৃষক সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন আইন’।  মোদি সরকারের দাবি ছিল, কৃষিতে ফড়িয়া বা দালালদের আধিপত্য কমানো, চুক্তিভিত্তিক চাষের ব্যবস্থা আইনসম্মত করা ও কৃষিপণ্য বিপণনের বিদ্যমান আইন বাতিল করে আন্ত রাজ্য কৃষিপণ্যের অবাধ বাণিজ্যের রাস্তা খুলে দেওয়া। আন্দোলনকারী কৃষক এবং বিরোধীদের অভিযোগ, এসব আইন আসলে সরকারি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তুলে দেওয়ার সূচনা। সরকারি নীতিগুলো কয়েক দশক ধরে ভারতের কৃষকদের মুক্ত বাজারের প্রতিযোগিতা থেকে রক্ষা করে আসছিল। কৃষকদের আশঙ্কা ছিল অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা চলে যাবে বড় ব্যবসায়ীদের হাতে।

গত নভেম্বরে কৃষকরা প্রথমে রাজধানী নয়াদিল্লিতে মিছিল করার চেষ্টা করেছিলেন। তখন পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশ তাঁদের রাজধানীতে প্রবেশ আটকাতে সক্ষম হয়। পরে কৃষকরা শহরের বাইরে দুটি স্থানে ক্যাম্প করে অবস্থান নেন এবং প্রধান সড়ক অবরোধ করেন। পরবর্তী মাসগুলোতে তাঁদের সঙ্গে আরো কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী যোগ দেন। জায়গাগুলো কৃষকদের আধাস্থায়ী শিবিরে পরিণত হয়। সেখানে স্বেচ্ছাসেবকরা খাদ্য, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা পর্যন্ত করেন।

কৃষকদের সংগঠনগুলো বলেছে, বিক্ষোভে এ পর্যন্ত কয়েক শ কৃষক নিহত হয়েছেন। সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি।



সাতদিনের সেরা