kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভিয়েনায় ইরান ও বিশ্বশক্তির আলোচনা ‘সফলভাবে শুরু’

ওয়ার্কিং গ্রুপ আজ থেকে কার্যক্রম ফের শুরু করবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভিয়েনায় ইরান ও বিশ্বশক্তির আলোচনা ‘সফলভাবে শুরু’

ইরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে পরমাণু বিষয়ে সমঝোতা পুনরুদ্ধারের জন্য ভিয়েনার আলোচনা গতকাল সোমবার আবার শুরু হয়েছে। প্রথম দফা বৈঠক শেষে রাশিয়ার প্রতিনিধি বলেছেন, আলোচনা ‘বেশ সফলভাবে’ শুরু হয়েছে।

প্রথম বৈঠকের পর আলোচনার সভাপতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের এনরিক মোরা আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ইতিবাচক বোধ করছি যে পরের সপ্তাহগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারব।’ মোরা আরো বলেন, এপ্রিলে আগের আলোচনার সময় গঠিত নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক ওয়ার্কিং গ্রুপ আজ মঙ্গলবার থেকে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে। পরমাণু ওয়ার্কিং গ্রুপ এক দিন পর আবার সক্রিয় হবে।

আলোচনার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানের শীর্ষ আলোচক আলী বাঘেরি কানি অংশগ্রহণকারীদের কাছে জোর দিয়ে বলেছেন, তাঁর দেশ একটি ‘ন্যায্য চুক্তিতে’ পৌঁছার বিষয়ে আন্তরিক, যা ইরানের বৈধ স্বার্থ সুরক্ষিত করবে।

এর আগে সব পক্ষই আলোচনার  ব্যাপারে কমবেশি আশাবাদ প্রকাশ করেছে। সবাই জানায়, আলোচনা যেখানে শেষ হয়েছিল সেখান থেকেই শুরু হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্ব নিরসনে সহায়ক হবে।

ভিয়েনায় আলোচনা শুরুর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গতকাল বলা হয়, বৈঠকে ঐকমত্যে পৌঁছার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইরান। তারা অধীর আগ্রহে আলোচনায় বসার জন্য অপেক্ষা করছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবজাদেহ বলেন, ‘ইরান সরকার চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী এবং বিষয়টি খুবই গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।’ মুখপাত্র আরো বলেন, দেশ থেকে সবচেয়ে যোগ্য আলোচকদেরই ভিয়েনায় পাঠানো হয়েছে। অন্যপক্ষও যদি সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখে তাহলে চুক্তির প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে আশা করা যায়। নিষেধাজ্ঞা যত তাড়াতাড়ি তুলে ফেলা সম্ভব হবে, তত তাড়াতাড়িই চুক্তিতে ফেরা সহজ হবে।

ইরানের আলোচিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ২০১৫ সালে দেশটির সঙ্গে প্রধান বিশ্বশক্তিগুলোর জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) শীর্ষক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসেন। ট্রাম্প সরকার ইরানের ওপর আবার কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর জবাবে ইরানও চুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করে এবং নিজেদের পরমাণু কার্যক্রম চলমান রাখে। যুক্তরাষ্ট্র বাদে অন্য পক্ষগুলো ইরানকে চুক্তির পথে ফিরে আসার জন্য বললেও দেশটি তার কার্যক্রম সীমিত করেনি। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার যুক্তরাজ্য, চীন, জার্মানি, রাশিয়া ও ফ্রান্সের সঙ্গে বৈঠক হলেও আলোচনা ফলপ্রসূ হয়নি। গত জুনে ভিয়েনায় সব পক্ষের মধ্যে শেষ বৈঠক হয়েছিল। এবার সব পক্ষই বিষয়টি নিয়ে সমঝোতায় আসার জন্য উদগ্রীব।

ভিয়েনার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র অংশ না নিলেও ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবে। যুক্তরাষ্ট্র আশা ব্যক্ত করে বলেছে, সব পক্ষই সমঝোতায় আসুক, তারাও তা-ই চায়।

বৈঠকের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ইরানবিষয়ক বিশেষ দূত রবার্ট মার্লে জানান, চুক্তিতে ফেরার জন্য তাঁর দেশ সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ স্ট্রাস বলেছেন, তাঁর দেশ ইরানকে পরমাণু অস্ত্র পাওয়া থেকে দূরে রাখতে ‘সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবে’ এবং ‘টেবিলে সব ধরনের বিকল্পই’ রাখবে। সূত্র : এএফপি, বিবিসি ও সিএনএন।



সাতদিনের সেরা