kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনাভাইরাসের নতুন রূপ

ডেল্টাকেও ছাড়াবে ওমিক্রন?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেল্টাকেও ছাড়াবে ওমিক্রন?

করোনাভাইরাসের নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে উদ্বেগের জেরে দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলো ছাড়ছে পর্যটক ও বিদেশিরা। দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পর্যটক ও বিদেশিদের এই দীর্ঘ সারি গতকালের। ছবি : এএফপি

করোনাভাইরাসের নতুন রূপ ওমিক্রন সম্পর্কে সব তথ্য এখনো বিজ্ঞানীদের কাছে স্পষ্ট নয়। অথচ এরই মধ্যে ডেল্টা ভেরিয়েন্টের সঙ্গে এর তুলনা করা শুরু হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের আশঙ্কা, মহামারির নতুন ঢেউয়ের কারণ হতে চলেছে ওই নতুন ভেরিয়েন্ট। অন্য অংশের ভাষ্য, সংক্রমণ ক্ষমতায় ওমিক্রন ডেল্টাকে ছাপিয়ে যেতে পারবে কি না, সেটা নিয়ে তাদের সন্দেহ আছে।

বিজ্ঞাপন

ওমিক্রনের বিস্তার এখন পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ ও এর আশপাশের কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ। তা ছাড়া হংকং, ইজরায়েল ও আফ্রিকাফেরত কয়েকজন পর্যটকের শরীরে মিলেছে এই ভাইরাস। গত ১৬ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনাভাইরাসের নতুন রূপে সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল ৩০০ জনের কাছাকাছি। গত বৃহস্পতিবার তা বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ২০০ জনে। সংক্রমণ বৃদ্ধির এই হার উদ্বেগজনক হলেও মহামারি বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, স্রেফ এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ওমিক্রনের সংক্রমণ ক্ষমতা সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সংগত নয়।

এদিকে বিজ্ঞানীদের আরেকটি অংশ যেসব কারণে উদ্বিগ্ন, সেগুলোও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। নতুন এই ভেরিয়েন্ট চীনের উহানে শনাক্ত ধরনের চেয়ে আলাদা। অথচ যেসব টিকা তৈরি করা হয়েছে, সেগুলো মূলত ভাইরাসের মূল ধরনের ওপর ভিত্তি করে। ফলে নতুন ভেরিয়েন্ট ওমিক্রনের বিরুদ্ধে টিকা কাজ না করার আশঙ্কা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব কোয়াজুলু-নাটালের অধ্যাপক রিচার্ড লেসেলস বলেন, এই ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগের কারণ হলো—এই ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ ক্ষমতা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। এ ছাড়া এই ভেরিয়েন্ট রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ওমিক্রন নিয়ে এসব আশঙ্কা সত্যি হবে, তেমনটা না-ও হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বেটা ভেরিয়েন্টের প্রসঙ্গ টেনে যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবি গুপ্ত বলেন, প্রতিরোধব্যবস্থা ঠিকঠাক সাড়া দিতে পারত না বেটার বিরুদ্ধে। বিষয়টা এর চেয়ে বেশি কিছু ছিল না।

ওমিক্রন সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য জানা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে এর পরিবর্তনের ধরন। সব মিলিয়ে ৫০ বারের মতো জিন বিন্যাস পরিবর্তিত হয়ে বর্তমান রূপ ধারণ করেছে এই ভেরিয়েন্ট। আর এর স্পাইক প্রোটিনের বৈশিষ্ট্য বদলেছে ৩০ বারের বেশি। এ ছাড়া ভাইরাসের যে অংশটি মানুষের শরীরের সংস্পর্শে আসে সেই রিসেপটর বাইন্ডিং ডোমেইন বদলেছে ১০ বার। এ পর্যন্ত চিহ্নিত সবচেয়ে সংক্রামক ডেলটা ভেরিয়েন্টের ক্ষেত্রে এই বদল ছিল মাত্র দুবার।

যেহেতু ওমিক্রন এখনো গবেষণার বিষয়বস্তু, তাই এটা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের সংক্রামক রোগবিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি বলেন, ‘আমাদের দেশে ভেরিয়েন্টটি ছড়াবে না, সেটা হয়তো নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে প্রশ্ন হলো, আমরা কি এই ভেরিয়েন্টের সংক্রমণ কমাতে পারব?’

মহামারি পরিস্থিতির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওমিক্রন সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল বিশ্লেষণের জন্য অন্তত এক সপ্তাহ সময় প্রয়োজন। সেই সময়সীমা এক মাসও হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) অবশ্য গত শুক্রবারই ওমিক্রনকে ‘উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ডেল্টাকেও একই বিশেষণে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ডাব্লিউএইচওর তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের শেষ পর্বে ভারতে শনাক্ত হওয়া ডেল্টা রূপ এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৬৩টি দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে বেশ কয়েক কোটি মানুষ। বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী ছিল এই ভেরিয়েন্টটি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এখন পর্যন্ত যতটুকু পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, তাতে ওমিক্রনের সংক্রমণ ডেল্টারে কাছাকাছি পৌঁছাবে, তেমন আভাস আপাতত নেই। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।



সাতদিনের সেরা