kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

নৌকাডুবি নিয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের তৎপরতা

মতৈক্যের চেয়ে বিতণ্ডা বেশি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মতৈক্যের চেয়ে বিতণ্ডা বেশি

ফ্রান্সের কালে শহরের কাছাকাছি জলসীমায় গত বুধবার নৌকাডুবির পর উদ্ধার হওয়া দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এদিকে এ নৌকাডুবির ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যুর পর মানবপাচারকারী সন্দেহে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার পর গত বুধবারই জরুরি ভিত্তিতে ফোনে কথা বলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। বিপজ্জনকভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে উভয় পক্ষই একমত হয়েছে। তবে তাতে পরস্পরের ওপর দোষ চাপানো বন্ধ করেনি ব্রিটেন ও ফ্রান্স।

দুই নেতা ফোনে কথা বলার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, বিপজ্জনকভাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া বন্ধে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ কতটা জরুরি, সেই বিষয়ে উভয় নেতাই একমত। মানবপাচারকারীদের অপতৎপরতা বন্ধে ‘সম্ভাব্য সব উপায়’ অবলম্বনের বিষয়েও তাঁরা একমত।

পরে প্রধানমন্ত্রী জনসন ব্রিটিশ গণমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে কী কী করা জরুরি, তা অংশীদারদের, বিশেষ করে ফ্রান্সকে বোঝাতে গিয়ে তাঁর সরকারকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব উভয় পক্ষেরই। তবে ফ্রান্স আশা করে, ব্রিটিশ সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘পূর্ণ সহযোগিতা’ করবে এবং পরিস্থিতিকে নাটকীয় করে তোলার মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা থেকে বিরত থাকবে।

জনসনের সঙ্গে ফোনে কথা হওয়ার আগে অবশ্য ম্যাখোঁ বলেছেন, ফ্রান্স কোনোভাবেই ইংলিশ চ্যানেলকে সমাধিক্ষেত্রে পরিণত হতে দেবে না।

গত বুধবারের এ বিতণ্ডা পরদিন বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকে। ব্রিটেন ও ফ্রান্স সরকারের বিভিন্ন কর্তাব্যক্তি ইংলিশ চ্যানেলকেন্দ্রিক পরিস্থিতির জন্য পরস্পরকে দুষতে থাকেন।

গত বুধবার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার সময় অবৈধ অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ফ্রান্সের কালে শহরের কাছে ডুবে যায়। এতে তাৎক্ষণিক ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। তবে উদ্ধার তৎপরতার ভিত্তিতে পরে জানানো হয়, ২৭ জন ডুবে মারা গেছে এবং দুজন জীবিত। জীবিতদের একজন ইরাকি ও অন্যজন সোমালীয়। ফ্রান্সের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে ১৭ পুরুষ, এক গর্ভবতীসহ সাত নারী এবং তিন শিশু রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেন্টস বলছে, ২০১৪ সালে তারা অবৈধ অভিবাসী সংক্রান্ত তথ্য রেকর্ড শুরুর পর ইংলিশ চ্যানেলে এটাই সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা। গত বুধবারের এ ঘটনার পরপরই শুরু হয় দুই দেশের মধ্যে বাক্যবাণ ছোড়াছুড়ি।

এদিকে ইংলিশ চ্যানেলে নৌকাডুবিতে ২৭ জনের মৃত্যুর পরও থামেনি ওই রুট ধরে ব্রিটেনে পাড়ি জমানোর ঘটনা। ব্রিটিশ সময় গতকাল সকালেও ৪০ অভিবাসপ্রত্যাশী নৌকায় চড়ে ডোভারে পৌঁছার চেষ্টা করে। তাদের উদ্ধার করে ডোভারে নিয়ে আসে দাতব্য সংস্থা আরএনএলআইয়ের উদ্ধারকারী জাহাজ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।



সাতদিনের সেরা