kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

এবার মরক্কোয় পা রাখল ইসরায়েল

সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ বললেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার মরক্কোয় পা রাখল ইসরায়েল

একের পর এক মুসলিম দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে এগোতে থাকা ইসরায়েল এবার উত্তর আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ মরক্কোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ গত মঙ্গলবার মরক্কোর রাজধানী রাবাতে পৌঁছেন। দুই দিনব্যাপী সফরের অংশ হিসেবে তিনি মরক্কোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই করবেন। দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মরক্কো ১৯৯৩ সালে একবার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বল্পমাত্রার সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। ২০০০ সালে দ্বিতীয় ফিলিস্তিনি বিপ্লবের সময় সেই সম্পর্ক ভেঙে দেয় মরক্কো। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। এরপর মরক্কোর সঙ্গেও ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা আসে। ওই ঘোষণার বছর না ঘুরতেই মরক্কো সফর করছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ। তিনিই প্রথম ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী, যিনি মরক্কো সফর করছেন। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন সফর করে বিভিন্ন চুক্তি স্বাক্ষর করেন ইসরায়েলির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েইর লাপিদ।

এমন এক সময় ইসরায়েলি মন্ত্রী মরক্কো সফর করছেন, যখন পশ্চিম সাহারা নিয়ে প্রতিবেশী আলজেরিয়ার সঙ্গে চরম দ্বন্দ্বে লিপ্ত উত্তর আফ্রিকার এ দেশ। একদিকে পশ্চিম সাহারায় নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দাবি করে আসছে মরক্কো, অন্যদিকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনকারী পলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন দিয়ে চলেছে আলজেরিয়া। দ্বন্দ্বের জেরে গত আগস্টে মরক্কোর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছেদ করে আলজেরিয়া।

পশ্চিম সাহারা নিয়ে দুই প্রতিবেশীর দ্বন্দ্বের মধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মরক্কো সফর এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর কাকতালীয় বলে মানতে রাজি নন বিশ্লেষকরা। মরক্কোবিষয়ক ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞ ব্রুস ম্যাডি ওয়েইটজম্যান মনে করেন, চলমান দ্বন্দ্বের পরিপ্রেক্ষিতে মরক্কোই সম্ভবত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চেয়েছে। তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ম্যাডি ওয়েইটজম্যান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে, মরক্কোর সরকার সবাইকে দেখাতে চাচ্ছে, অর্থাৎ নিজেদের জনগণ, প্রতিদ্বন্দ্বী আলজেরিয়া ও পশ্চিমের সামনে দেখাতে চাচ্ছে যে ইসরায়েলের সঙ্গে সরকার সম্পর্ক আরো গভীর করছে।’

এ অবস্থায় মরক্কো সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে এ সফরের ‘সাফল্য’ প্রমাণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বেনি গান্টজ। তাঁর সফরসংশ্লিষ্ট এক সূত্র বলে, ইসরায়েল-মরক্কোর মধ্যে ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করার লক্ষ্যেই গান্টজের এ সফর। কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক এরই মধ্যে গড়ে উঠেছে। এ সফরে সেটাই আনুষ্ঠানিকতা পেল। সূত্র : এএফপি।



সাতদিনের সেরা