kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে কপ২৬

পেট্রল-ডিজেল-গ্যাসচালিত কারের পরিবর্তে শিগগির বাজারে আসতে পারে বিদ্যুত্চালিত কার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে কপ২৬

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় হয়ে যাওয়া কপ২৬ শীর্ষক জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে বিশ্বনেতারা পরিবেশ রক্ষায় যেসব অঙ্গীকার করেছেন, সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে আমাদের নিত্যদিনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে চলেছে। খাদ্য থেকে শুরু করে আবাসস্থল নির্মাণ, এমনকি চিন্তাধারায়ও হয়তো পরিবর্তন আসবে।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর স্বার্থে নীতিগত পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে আজকের দিনের পেট্রল-ডিজেল-গ্যাসচালিত কারের পরিবর্তে শিগগির বাজারে আসতে পারে বিদ্যুত্চালিত কার। সে ক্ষেত্রে প্রচলিত কারের দামে বিদ্যুত্চালিত কার বাজারে সহজলভ্য হবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পরিবেশবাদীদের দ্বারা প্রভাবিত হলে আমরা হয়তো গাড়িতে চড়া ছেড়ে সাইকেল ধরতে পারি।

কপ২৬ সম্মেলনে ৪০টির বেশি দেশ কয়লার ব্যবহার ত্যাগের যে অঙ্গীকার করেছে, তা পূরণ করা হলে অনিবার্যভাবে বাড়বে সৌরবিদ্যুৎসহ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে তৈরি বিদ্যুতের ব্যবহার। পরমাণুবিদ্যুৎ হয়ে উঠতে পারে আমাদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস।

অচিরেই আমাদের বসতবাড়ি হয়ে উঠবে আরো পরিবেশবান্ধব। নতুন বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে হয়তো বাড়বে কম কার্বন নিঃসরণকারী সিমেন্ট ও কংক্রিটের ব্যবহার। তবে ভবিষ্যতের প্রকৃতি আরো বিরূপ হয়ে উঠতে পারে, তা মাথায় রেখে আরো দুর্যোগ সহনশীল বাড়ি নির্মাণেও মনোযোগ বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন অরুপ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের পরিচালক ইভা হিংকারস; যেমন—বাড়ির ভেতরে-বাইরে গাছের জন্য জায়গা বাড়ানো যেতে পারে বাড়তি তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার স্বার্থে। এ ছাড়া বাড়ির ছাদে হয়তো এমন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে, যাতে সূর্যকিরণ বেশি প্রতিফলিত হয় এবং তাপ কম শোষণ করে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্বন নিঃসরণের দায় নিতে হতে পারে ভোক্তাদেরও। বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্বন ট্যাক্স আদায়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে তা ভোক্তা পর্যায়ে প্রভাব ফেলবে। এই যেমন—কোনো খাদ্য উৎপাদনে কার্বন নিঃসৃত হলে এবং সে জন্য প্রতিষ্ঠানের কর দিতে অবধারিতদের ভোক্তা পর্যায়ে সেই খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হবে। আর দাম কমাতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাবর্ন নিঃসরণ কমানো এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের দিকে নজর দিতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে অ্যামাজন, ইউনিলিভারের মতো বহুজাতিক কম্পানিগুলো তাদের পণ্য পরিবহনের জন্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনির্ভর জাহাজ ব্যবহারের কথা ভাবছে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধের বেশির ভাগ দেশ যদি বনাঞ্চল রক্ষায় জোর দেয়, তবে এর অনিবার্য প্রভাব পড়তে চলেছে দক্ষিণ গোলার্ধের ধনী ভোক্তা দেশগুলোর ওপর। সয়াবিন, পাম অয়েল, মাংসের মতো বিভিন্ন খাদ্যের জন্য দক্ষিণের ভোক্তাদের আরো বেশি অর্থ খরচ করতে হবে। কারণ তখন বন উজাড় করে সস্তায় খাদ্যপণ্য উৎপাদনের ধারা ব্যাহত হবে।

বিশ্বজুড়ে নানা পরিবর্তনের ধারবাহিকতায় বিনিয়োগের ধরনেও আসবে পরিবর্তন। সর্বোপরি আমাদের চিন্তাধারায় আসতে পারে বড় ধরনের পরিবর্তন। সূত্র : বিবিসি।



সাতদিনের সেরা